logo

মালিক-শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক: জামায়াত আমির 

মালিক-শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক: জামায়াত আমির 

মালিক ও শ্রমিক একজন আরেকজনের পরিপূরক বলে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিক পরস্পরকে সম্প্রীতি ও সৌহর্দ্যের মধ্য দিয়ে চলতে হবে। 

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ইফতার মাহফিল এ কথা জানান তিনি। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঘাম ঝরানো শ্রমিকরা সম্পদশালী ইমানদারের চেয়ে পাঁচশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এটা বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি দুই শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেলে সানন্দে মিশি। এক শ্রেণি হলো শিশু। আরেক শ্রেণির মানুষ, যারা ঘাম ঝরিয়ে হালাল রুজি করে। 

তিনি বলেন, অনেকে আছেন, শ্রমিক বন্ধুর সঙ্গে হাত মেলানোর পর রুমাল দিয়ে মুছেন। ওই ঘামের গন্ধ যেন তার হাতে লেগে না থাকে। আমার অনুভূতি ভিন্নরকম। আমি কোথায় গিয়ে যদি শ্রমিকদের পাই, দু চারজন হলে ঝাপটে ধরার চেষ্টা করি। তাদের সঙ্গে বুক মেলানোর চেষ্টা করি। আমি প্রত্যাশা করি, তার এক ফোটা ঘাম হলেও যেন আমার গায়ে লাগে। কারণ, ওই ঘামটা হলো হালাল রুজির ঘাম। আমার কাছে ওটা ঘামের দুর্গন্ধ নয়, আতরের সুগন্ধ। 

মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে আমাদের সমাজের বিভিন্ন জায়গায় মালিক-শ্রমিক সংঘাত। এটা হওয়া উচিত নয়। শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে, মালিক পক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে বলেই আমার কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার আমি আছি বলেই মালিক পক্ষের কল-কারখানার চাকা চলে। সুতরাং একজন আরেকজনের পরিপূরক। 

জামায়াত আমির বলেন, আপনি গালি দিয়ে, ধমক দিয়ে, পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে, চাবুক মেরে এবং শাসন করে ভালো ফিডব্যাক পাবেন না। আপনি আদরের সঙ্গে শাসন করুন, তাহলে সর্বোত্তম ফিডব্যাক পাবেন। 

শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যদি সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজটা মানবিক সমাজে পরিণত হবে। আমাদের ডায়নামিকস, শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। 

তিনি বলেন, এক শ্রেণির লোক আছে, মালিক-শ্রমিকের মাঝে ভালা সম্পর্ক চান না। তারা দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত লাগিয়ে রাখতে চায়। একটা প্রতিহিংসার ভাব তৈরি করে রাখে।