ভোটে নয়, ফল ঘোষণার আগে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে বড় ধরনের অনিয়ম চোখে না পড়লেও ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রচারের মাঝামাঝি সময়েই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) খুলনা নগরীর একটি হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জেলা জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ভোটের দিন পরিবেশ উৎসবমুখর ছিল। মানুষ বাধাহীনভাবে ভোট দিয়েছে। কিন্তু পরে ফলাফল ঘোষণার আগে যে রহস্যময় বিরতি তৈরি হল, সেটাই বড় প্রশ্ন।
গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আসন থেকে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তার ভাষায়, এই সময়টাতেই কী ঘটেছে, সেটার জবাব সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন কেউই স্পষ্ট করে দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, অল্প ভোটের ব্যবধানে থাকা বেশ কয়েকটি আসনে উপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি আসনে মামলা করা হয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেক মানুষ আছেন যারা কখনো জামায়াত করেননি, এমনকি দাঁড়িপাল্লার স্লোগানও দেননি- তারাও এবার স্বতস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু অবস্থান সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে খুলনা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাকে এবং মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং দেশবাসীর আর বুঝতে বাকি নেই বিগত নির্বাচনে কী হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম।
আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও হিন্দু মহাজোটের খুলনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি কাজী শামীম আহমেদ।
অন্যদের মধ্যে খুলনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও এ টি এম গাউসুল আযম হাদি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মোস্তফা আল মুজাহিদ, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, অধ্যাপক আব্দুর রব, খুলনা জেলা উত্তরের সভাপতি মমিনুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু জর গিফারী, খুলনা জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলার সহসভাপতি মুফতি মাওলানা আব্দুল কাইউম জমাদ্দার, সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম ও প্রচার সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাকিব, জামায়াতের কয়রা উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, পাইকগাছা উপজেলা আমির মাওলানা সাইদুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মুক্তার হুসাইন, ফুলতলা উপজেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, খানজাহান আলী থানা আমির সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, দিঘলিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আবুল হাসান, তেরখাদা উপজেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, রূপসা উপজেলা আমির মাওলানা লবিবুল ইসলাম, বটিয়াঘাটা থানা আমির মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, দাকোপ থানা আমির মাওলানা আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।