বিএনপির ৪৮ বছরের ৪৮টি অর্জন তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের সর্বস্তরের জনগণ, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। একই সঙ্গে বিএনপির এ দীর্ঘ পথচলার উল্লেখযোগ্য ৪৮টি অর্জন তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকান্টে এ সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে মাহ্দী আমিন লিখেছেন, গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াইয়ে গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার সকল ত্যাগী জাতীয়তাবাদী সৈনিককে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধারণ করে গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী, মেধাভিত্তিক ও আধুনিক রূপকল্পে বিএনপি রূপ নিয়েছে এক গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী দুর্বার শক্তিতে।
তিনি লিখেছেন, বিএনপির দীর্ঘ পথচলায় অর্জন ও সাফল্যের তালিকা বিশাল, ব্যাপক ও বিস্তৃত। এর মধ্য থেকে একান্ত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধিতে ৪৮ বছরের উল্লেখযোগ্য ৪৮টি অর্জন এখানে তুলে ধরছি।
(১) ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের সফল প্রবর্তন
(২) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা
(৩) স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতি
(৪) বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা
(৫) সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ বাগস্বাধীনতা
(৬) ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব
(৭) সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ প্রবর্তন ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন
(৮) রাষ্ট্র পরিচালনায় সব মত-পথ, ধর্ম-বর্ণ, দর্শন-আদর্শ ও অবস্থান-এলাকার গণতান্ত্রিক মানুষের সন্নিবেশ
(৯) দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচি
(১০) রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা
(১১) বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা
(১২) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিশুপার্ক ও নতুনকুঁড়ি প্রতিষ্ঠা
(১৩) সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রবর্তন ও ‘একুশে পদক’ প্রবর্তন
(১৪) স্বনির্ভর গ্রাম সরকার প্রবর্তন
(১৫) ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা
(১৬) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন
(১৭) গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন
(১৮) গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন
(১৯) মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা
(২০) সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
(২১) সংবিধানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তর্ভুক্তি
(২২) মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু
(২৩) অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন প্রণয়ন
(২৪) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠন
(২৫) প্রাথমিক শিক্ষাকে দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক ঘোষণা
(২৬) দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে নারী শিক্ষা চালু ও স্নাতক পর্যন্ত চালুর সিদ্ধান্ত
(২৭) শ্রমিকবান্ধব নীতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম আইন প্রণয়ন
(২৮) খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তন
(২৯) উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
(৩০) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
(৩১) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সূচনা
(৩২) জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু
(৩৩) পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন
(৩৪) টু-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব সিএনজি চালু
(৩৫) দেশের প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণ
(৩৬) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি
(৩৭) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা
(৩৮) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠন
(৩৯) দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভিশন-২০৩০
(৪০) স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা
(৪১) তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা স্থাপন ও সম্প্রসারণ
(৪২) বেসরকারি খাতে মোবাইল যোগাযোগ উন্মুক্তকরণ এবং বিটিআরসি গঠন
(৪৩) কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা
(৪৪) রাষ্ট্র সংস্কারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা
(৪৫) কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় কৃষক কার্ড প্রচলন
(৪৬) নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড প্রচলন
(৪৭) ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসকদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান
(৪৮) বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বাগ্রে রেখে, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার মূলনীতিকে ধারণ করে, গণমুখী ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ে উঠছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার তথা জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তির এক ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।
শেষে তিনি লিখেছেন, গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর অপরিসীম ত্যাগ ও আত্মদানের ইতিহাস, আর সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সমর্থনই দলীয় এ অভিযাত্রার সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়।


