logo

সংসদে কথা বলার দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই অগ্রাধিকার পাবেন: রিজভী

সংসদে কথা বলার দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই অগ্রাধিকার পাবেন: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা, সংসদে কথা বলার দক্ষতাসম্পন্ন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রায় পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে পুনরায় ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে এবং রোববার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলবে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘যারা প্রার্থী হতে আগ্রহী তারা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দেবেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। খুব শিগগিরই পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।’

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, বিএনপি অতীতের মতোই স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করবে। ‘দলের সংসদ সদস্য নির্বাচনের যে রীতি রয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে,’ যোগ করেন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘১৬ থেকে ১৭ বছর কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করে যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখবে এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গেও রিজভী বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান—সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হওয়া উচিত।

সংরক্ষিত নারী আসনে আগ্রহীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে নারী নেত্রীরা ব্যাপকভাবে ফরম সংগ্রহ করছেন। আন্দোলনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অনেকে মত প্রকাশের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, সংসদে কথা বলার সক্ষমতা রয়েছে এবং সমাজে সুনাম আছে—তাদের মধ্য থেকেই দল যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে।’