১১ দলীয় জোটের পরাজয় হয়নি, কারচুপি করে হারানো হয়েছে: রাশেদ প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটি একটি ‘ম্যানেজ ভোট’ ছিল। ২০০৮ সালের মতো প্রশাসন, কমিশন ও মিডিয়াকে ম্যানেজ করে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে ২৮টি জেলায় প্রচারণা চালিয়ে দেখেছি জনগণের ভালোবাসা আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের পরাজয় হয়নি, বরং কারচুপির মাধ্যমে আমাদের হারানো হয়েছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি জনগণ ডাক্তার শফিকুর রহমানকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিল।’
বর্তমান ছাত্র-জনতার বিপ্লব, ভারত বিরোধিতার অনড় অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কসহ নানা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন রাশেদ প্রধান।
এ সময় ১১ দলীয় জোট কেন এই নির্বাচনে জিতে আসতে পারল না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ।
‘ম্যানেজ ভোট’ তাহলে মেনে নিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা তাৎক্ষণিক বড় আন্দোলনে যাইনি, যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অগণতান্ত্রিক শক্তি বা জরুরি অবস্থা জারি না হয়। আমরা চেয়েছিলাম বিরোধী দল হিসেবে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে এবং তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে।’
১১ দলীয় জোটে অন্য দলগুলোর তুলনায় আপনি দ্বিধাহীন কেন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মানুষ। বিএনপি আমাদের ওপর তাদের সিদ্ধান্ত তোতা পাখির মতো চাপিয়ে দিতে চাইত, যা আমার পছন্দ হয়নি। তারা সংস্কারবিরোধী অনেক কথা আমাদের দিয়ে বলাতে চাইত। আমি মনে করি, জোট মানে আমরা সবাই এক। ১১ দলের যে কোনো কাজে সক্রিয় হওয়া মানে আমার নিজের দলেরই কাজ করা। আমি রাজনীতি করি বুক ফুলিয়ে, লুকিয়ে থাকার জন্য নয়।’
জাগপা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল, এখন নেই। বিএনপির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক কেমন?
জবাবে রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এখনো সুসম্পর্ক ও কুশল বিনিময় হয়। তবে তৃণমূলের যারা রাজপথে সক্রিয় ছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বেশি। দুঃখজনক হলো, যারা রাজপথে লড়াই করেছে, তারা এখন বঞ্চিত, আর সুবিধাবাদীরা বড় জায়গায় পৌঁছে গেছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের ফেরার গুঞ্জন আছে নিয়ে প্রশ্নে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘বিএনপি একটি চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং তারাই আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিচ্ছে। আমার বাড়ি পঞ্চগড়ে ভোটের পরের দিন বিএনপি নেতা নিজে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিস উদ্বোধন করেছেন। এটা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পা রাখার ১৩ দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ যখনই শক্তি সঞ্চয় করবে, সবার আগে বিএনপিকেই ধ্বংস করবে।’