আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক: খেলাফত মজলিস

হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই প্রভৃতি অপরাধের মাত্রা বাংলাদেশে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশুরহাট ইজারায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এসব কথা বলেন দলের নেতারা।
তারা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশ নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা ভারতের এমন আধিপত্যবাদী আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সীমান্ত হত্যা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নেতারা বলেন, গত এক সপ্তাহে বি-বাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলেও এর উপযুক্ত জবাব চাইতে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখনও তলব করেনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে এই ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই।
দলটির দাবি, ফেনী, সিলেট, রংপুরসহ সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বন্যাকবলিত অঞ্চলে টেকসই বাঁধনির্মাণ, মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া সরকারকে এই মৌসুমেই দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ নির্মাণের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যে কোনো মূল্যে তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে তারা বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা আজকে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বেইমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। জুলাই গণহত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে হবে।
দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসাইন মালিক, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুববিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, আবুল হোসেন, আমির আলী হাওলাদার, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
