logo

হামিমকে নিয়ে কী বলছেন নিজ এলাকার সুপরিচিত সাংবাদিক

হামিমকে নিয়ে কী বলছেন নিজ এলাকার সুপরিচিত সাংবাদিক

ফেসবুকে যেভাবে হামিমকে গুপ্ত বলে প্রচার চলছে— হাসি পাচ্ছে, কষ্টও লাগছে। রাজনীতিতে পদের আকাঙ্ক্ষা, গ্রুপিং, ভিন্ন মত থাকবেই। তাই বলে হামিমের মতো নিবেদিত কর্মীকে নিয়ে এমন নোংরামি দূর থেকে দেখে মানতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হামিমের নিজ এলাকার সাংবাদিক হাসান হিমালয় এসব কথা বলেন। তিনি দৈনিক সমকালের খুলনা ব্যুরো চীফ।

পোস্টে হাসান হিমালয় লেখেন, শেখ তানভীর বারী হামিমকে চিনি সেই স্কুলজীবন থেকে। খুলনা জিলা স্কুল, সিটি কলেজ, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনার পুরোটা সময় বলতে গেলে চোখের সামনে বড় হয়েছে। একটু নাদুসনুদুস, গোলগাল, স্পষ্টভাষী হওয়ায় একতরফা স্নেহ পেয়েছে সবসময়। স্নেহের দাবি নিয়ে সবসময় নক করেছে, নানা আবদার মেটাতে হয়েছে মাস্টার্সের ফাইনাল পর্যন্ত। অতি আবেগী, হুটহাট কিছু একটা করে বসা নিয়ে বকাও খেয়েছে প্রচুর। এরপর অভ্যুত্থান, ডাকসু নির্বাচন নানা ব্যস্ততায় যোগাযোগ কমে গিয়েছিল।

তিনি আরও লেখেন, কাল রাত থেকে ফেসবুকে যেভাবে হামিমকে গুপ্ত বলে প্রচার চলছে, হাসি পাচ্ছে।‌ কষ্টও লাগছে। রাজনীতিতে পদের আকাঙ্ক্ষা, গ্ৰুপিং, ভিন্নমত থাকবেই। তাই বলে হামিমের মতো নিবেদিত কর্মীকে নিয়ে এমন নোংরামি দূর থেকে দেখে মানতে পারছি না।

হাসান হিমালয় তার পোস্টে লেখেন, স্কুলে থাকা অবস্থায় ফেসবুকে লেখা এবং আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের রোষানলে পড়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল হামিমকে। ছাত্রলীগের আগ্ৰাসী অবস্থানের মুখে দিনের পর দিন সিটি কলেজে ছাত্রদলের মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি হামিমকে। প্রতিপক্ষ দমনে ছাত্রদলের তৈরি ট্যাগ ‘গুপ্ত’ এমন একজনকে দেওয়া হচ্ছে, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ওপর ওর যে ভালোবাসা, আনুগত্য এটা কোনো বাটখারায় মাপা যাবে না।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, মানুষ তো ফেরেশতা হবে না। দোষ-ত্রুটি, দুর্বলতা থাকেই। তবে খুলনায় থাকা অবস্থায় হামিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, মারামারির কোনো অভিযোগ পাইনি। ছাত্রদল নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন। তারা সাংগঠনিকভাবে এক নেতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরোটাই তাদের নিজস্ব বিষয়।‌

সবশেষ তিনি উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির যে আশা মানুষের মনে জেগেছে, এটিকে এগিয়ে নিতে হামিমদের প্রয়োজন। হামিমের মতো ছেলেগুলোকে হারাতে দিলে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পিছিয়ে যাবে। হামিমের জন্য ভালোবাসা।