logo
Advertisement

এনসিপির বিষয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন রাশেদ খান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এনসিপির বিষয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। আর কিছু বললাম না... শুধু এতটুকু বলব, একদিন আপনারাই বলবেন— দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষেছি!’

Advertisement

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

লংমার্চ ঘিরে জামায়াতের পরিকল্পিত ঝামেলা করার পরিকল্পনা ছিল দাবি করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, তাই পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যাওয়া হয়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত। তবে পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার পরিকল্পনা ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরবর্তীতে বহরের গাড়িতে তোলা হয়েছিল কি না। তবে জামায়াতের বহর থেকে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন— ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল-যুবদল গেলি কই!’

জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের আক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, সবকিছু দেখে মনে হলো এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনায়, অর্থায়নে ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। জামায়াত যেহেতু সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না, তাই এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখানে থেকে খেলতে চায়! তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক এনসিপিকে জামায়াতের মুখপত্র বানানো মেনে নিতে পারছেন না। তাদের মন্তব্য এমন যে, এনসিপি আজ হোক আর কাল হোক জামায়াত জোট ছাড়বে; সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? এ নিয়ে সচেতন নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রবল আক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে!

রাশেদ খান আরও বলেন, শুনুন, জামায়াত জোটে কারা আছে? এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন দেয়নি, তাই তারা জামায়াতে গেছে। আর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপিতেই থাকত। এ ছাড়া বাকিরা একটি করে আসন না পেয়ে জামায়াতে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন ছেড়ে সমন্বয় করতে পারলে এরা সবাই আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে আসবে!

জামায়াতকে ভারতের এক্সটেনশন দাবি করে তিনি বলেন, সব মিলিয়ে জামায়াত যাদের ওপর ভরসা করে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না! এনসিপি জামায়াত সম্পর্কে কী না বলেছে? জামায়াত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রবিরোধী শক্তি, ভারতের এক্সটেনশন, সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে এবং জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়— এসব তো তারাই বলেছিল।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে রাশেদ খান আরও বলেন, তাই বলি, ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকেই কিনে রাখুন, সামনে তারা কী কী বলবে তা নোট করার জন্য! জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে রাখুন, এনসিপি ৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি আছে। আর কিছু বললাম না... শুধু এতটুকু বলব, একদিন আপনারাই বলবেন— দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষেছি!