logo

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সতর্ক ও ধৈর্যশীল হতে হবে: জামায়াত আমির

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সতর্ক ও ধৈর্যশীল হতে হবে: জামায়াত আমির
বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীলদের সতর্ক ও সজাগ থাকার পাশাপাশি উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

গাজীপুরে তিন দিনব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির এবং নায়েবে আমিরদের কেন্দ্রীয় শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ৬ আগস্ট শুরু হওয়া শিক্ষাশিবিরটি শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেষ হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বশীলদের নিজেদের অবস্থান মূল্যায়ন করতে হবে এবং ঈমানকে মজবুত করতে হবে। সংগঠনের আস্থার জায়গায় কেউ আঘাত করলে তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সর্বোচ্চ নৈতিক মানে পৌঁছাতে না পারলেও ন্যূনতম নৈতিক মান বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রতিবেশীর অধিকারকে জামায়াত স্বীকার করে। তবে কোনো দেশের জুলুম সহ্য করা হবে না। একটি দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। দায়িত্বশীলদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদেশিরা উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সম্ভাবনাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এ ক্ষেত্রে মিডিয়াকে সাম্রাজ্যবাদের বড় হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্বব্যাপী ইসলামোফোবিয়া ও অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; তবে সতর্ক থাকতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

পররাষ্ট্রনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।

শিক্ষাশিবিরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, দ্রব্যমূল্য, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনগণ হতাশ।

তিন দিনের শিক্ষাশিবিরে কোরআন ও হাদিস অধ্যয়ন, পুস্তক পাঠ এবং বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে গ্রুপ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।