বগুড়া ও শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর জয়

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট এবং ফুলকপি প্রতীকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার ৫২৬ ভোট পেয়েছেন।
এদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনেও বেসরকারি ফলে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জয়ী বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯১ ভোট। এ ছাড়া কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, এই উপনির্বাচনে মোট একটি পোস্টাল ব্যালটসহ ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছিল ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টায় ভোটারদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র দখল, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মাধ্যমে আগাম ফলাফলের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং নারী এজেন্টদের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দুপুরের পর থেকে বিরোধী দলের উপস্থিতি প্রায় শূন্য করে দিয়ে নির্বিঘ্নে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।
ফল ঘোষণার আগেই সন্ধ্যায় তার স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আবিদুর রহমান সোহেল এই নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল বিএনপি এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার সমন্বয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও ভোটের মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফলাফল পর্যন্ত থাকার কথা জানান তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত—এই বার্তাটি জাতির সামনে তুলে ধরাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ছোটখাটো অভিযোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শেরপুর জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।
জানা গেছে, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। আসনটিতে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৫১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হয়। এই আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। সব মিলিয়ে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪টি। এর মধ্যে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ এবং বাতিল ভোট ২ হাজার ৮৬টি। আর পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ হাজার ৫৭৪ জন। এরমধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ১৯ জন।
জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে জাল ভোটের ঘটনা ঘটলেও জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে তপশিল ঘোষণার পর স্থগিত রাখা হয়েছিল। সে সময় জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নুরুজ্জামান বাদল। এই আসনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টার দিকে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২১২টি আসন লাভ করে। উপনির্বাচনে পাওয়া এই দুটি আসন নিয়ে বিএনপি জোটের মোট আসনসংখ্যা হবে ২১৪। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।