বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত, যা বললেন সেক্রেটারি জেনারেল

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদাহ এলাকায় বিএনপি কর্মীদের নৃশংস হামলায় শহীদ হাফিজুর রহমান নিহত ও একাধিক নেতাকর্মীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল।
রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিহিংসামূলক মনোভাব থেকে সংঘটিত এ বর্বর হামলা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতভেদকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র মানুষের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ওপর সরাসরি আঘাত।
তিনি শহীদ হাফিজুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেন।
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ন হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় ইফতারের পর দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় মফিজুর রহমানকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত ওহাবের ছেলে।
জানা গেছে, সংঘর্ষে নিহতের ভাই হাসাদহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এবং বিএনপির হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কেরামত আলীর ছেলে মেহেদী হাসানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে গুরুত্ব চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।