logo

কী থাকছে বিএনপির ইশতেহারে

কী থাকছে বিএনপির ইশতেহারে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ঘোষিত ৩১ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ২০৩০ ভিশন, জুলাই সনদ এবং তরুণ ভোটারদের আকাঙ্ক্ষা—এই চার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ইশতেহার।

ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো জনমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ সেবা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকবে। অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

এ ছাড়া আলেম-ওলামা, সংখ্যালঘু ও কৃষকদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও থাকছে বিএনপির ইশতেহারে। বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের।

দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বলরুমে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

দলীয় সূত্র জানায়, জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনাও ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইশতেহার প্রসঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ আলমগীর পাভেল এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশ গড়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনাই বিএনপির ইশতেহারের মূল কথা। সাধারণ মানুষের সামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলোই এখানে অগ্রাধিকার পেয়েছে। বিশেষ করে নারীর মর্যাদা, স্বীকৃতি ও ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য থাকবে কৃষক কার্ড। কৃষি ব্যবস্থাপনা, কৃষকের সুরক্ষা, উৎপাদিত পণ্যের বিমা সুবিধা, সার ও বীজে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি ও নিয়োগ খাতে প্রণোদনার মাধ্যমে ১৮ মাসে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

ধর্মীয় খাতে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও ধর্মযাজকদের প্রণোদনা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, দুর্নীতি নির্মূলে কর্মসূচিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সব খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং যে কোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি। এই খাতে দুর্নীতি রোধে বেগম খালেদা জিয়ার জিরো টলারেন্স নীতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করে মানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে আসছে।

এখানে আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে ওনাদের যে ভিশন রয়েছে, যে রূপকল্প রয়েছে—সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে একদম সাধারণ মানুষের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তারা কি চাচ্ছে? আমাদের মূল লক্ষ্য—এমনভাবে পরিকল্পনাগুলো সাজানো যেটা বাস্তবভিত্তিক হয় এবং টেকসই হয়, যোগ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন সে ঐতিহাসিক সময়ে তিনি বলেছিলেন, হি হ্যাজ এ প্ল্যান। এই প্রত্যেকটি প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটি প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটি প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন, জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীন অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন যেখানে নিজে তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো বিএনপির ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।