logo

হেরে গিয়েও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আমিনুল

হেরে গিয়েও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আমিনুল

ফুটবলের মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে আমিনুল হকের আগমনের বিষয়টিই ছিল বেশ চমকপ্রদ। চরম প্রতিকূল সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে সাফজয়ী এই সাবেক তারকা ফুটবলারের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততায় বিস্মিত হয়েছিলেন অনেকেই। তবে ‘তারকা কোটার’ নামসর্বস্ব পদধারী হয়ে না থেকে বিএনপির রাজপথের রাজনীতিতে অদম্য পারফরমারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আমিনুল। পুলিশি নির্যাতন, মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার-কারাবরণ—বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে এমন দুঃসহ নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও পিছিয়ে যাননি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক। অল্প সময়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটে আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে লড়েছেন  ঢাকা-১৬ আসন থেকে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ভক্ত-অনুসারীদের প্রত্যাশা ছিল, বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন আমিনুল। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গী-সতীর্থরা আশা করেছিলেন, আমিনুলই হবেন পরবর্তী ক্রীড়ামন্ত্রী। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গেছেন তিনি। তবুও আশা ছাড়ছেন না আমিনুলের শুভাকঙ্ক্ষীরা। গুঞ্জন উঠেছে, সংসদ সদস্য হতে না পারলেও টেকনোক্র্যাট হিসেবে আমিনুল ঠাঁই পেতে পারেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়! 

এদিকে আমিনুলের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার যথাযথ মূল্যায়নের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেকে। আমিনুলের বন্ধু সাবেক ফুটবলার বিপ্লব ভট্টাচার্য তাদের মধ্যে একজন। ভোটের লড়াইয়ে বন্ধুর পরাজয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ফেসবুকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘নির্যাতন, নিপীড়ন আর কারাবাস সহ্য করে আমিনুল ঢাকা ১৬ আসনের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিলেন চোখের মনি, কিন্তু কিছু মানুষের নীলনকশার কারণেই তিনি পরাজিত হয়েছেন।’ বিপ্লব তার পোস্টে দাবি জানিয়েছেন, তারেক রহমান যেন আমিনুলকে যোগ্য সম্মান দেন। 
আমিনুলের পাশে আছেন দাবায় লাল সবুজের পতাকা উজ্জ্বল করা গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদও। গণমাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আমিনুল হক। বিএনপি চাইলে তাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করতেই পারে।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী, সংবিধানে কী আছে
বাংলাদেশের সংবিধানে ৫৬(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাইরে নিজ ক্ষমতাবলে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন। তবে সেই সংখ্যাটা মন্ত্রিসভার মোট সদস্যদের এক দশমাংশের বেশি হবে না। 
বাংলাদেশের সব মন্ত্রিসভাতেই টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী নির্বাচনের নজির রয়েছে। সবশেষ মন্ত্রিসভাতেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ছিলেন তিনজন। মূলত নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং বিশেষজ্ঞদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সরকারের কাজের সুবিধার্থে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন অনেকেই। 
আমিনুলের অনুসারী-শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, সরকার তার কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশেষজ্ঞ কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে থাকে। সে বিবেচনায় আমিনুল হককেও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আনা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা সামাল দেওয়ার জন্য আমিনুলের চেয়ে দক্ষ ব্যক্তি আর কে হতে পারেন! কারণ তিনি নিজেই দীর্ঘকাল ছিলেন এ অঙ্গনের মানুষ এবং ঢাকা মহানগরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলে তারেক রহমানের স্বপ্নের দেশ বিনির্মাণের এ যাত্রায় নির্ভরযোগ্য সহযাত্রী হয়ে উঠতে পারবেন তিনিও। 

বিএনপির সংসদ সদস্য তালিকায় এবার ক্রীড়াঙ্গনসংশ্লিষ্ট অনেকেই  
আমিনুল হক ছাড়াও এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনসংশ্লিষ্ট অনেকেই। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ীও হয়েছে। এমন কয়েকজন হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস,  সাবেক তারকা ফুটবলার ও বাফুফের সাবেক সভাপতি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট আলী আসগর লবি, সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় এহসানুল হক মিলন, ব্রাদার্স ইউনিয়নের বর্তমান আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার আলোচনায় আছেন তারাও।