logo

হাদির নামকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে কাজে লাগাতে চেয়েছে: ছাত্রদল সম্পাদক

হাদির নামকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে কাজে লাগাতে চেয়েছে: ছাত্রদল সম্পাদক

ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর একটি গোষ্ঠী গুজব, অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ফায়দা নিচ্ছে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। এ ছাড়া সাম্প্রতিক কিছু বিষয়ের ওপর অবতারণা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে শিষ্টাচারহীন অসুস্থ আচরণ চলতে পারে না।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

নাছির উদ্দিন লেখেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুনিদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিল। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল শুরু থেকেই এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং হাদির নামকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে কাজে লাগাতে চেয়েছে।’

মির্জা আব্বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই সামাজিকমাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে জড়িয়ে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়; এমনকি সাদিক কায়েমও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দেন, যা পরে প্রত্যাহার করতে হয়। ঢাকা মেডিকেলে গিয়েও কিছু ব্যক্তি তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেও তিনি সংযম বজায় রাখেন।’

‘পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় পলাতক খুনিকে পার্শ্ববর্তী দেশে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

‘এদিকে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভুল লেখাটি ইনকিলাব মঞ্চের এক সদস্যই লিখেছেন, ফলে সংশ্লিষ্টরা পোস্ট সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু গোষ্ঠী মিথ্যা ও গুজবনির্ভর বয়ান ছড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করছে এবং নির্বাচিত নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তাই মতভেদ থাকলেও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা নয়, বরং শিষ্টাচার ও ন্যায়বিচারের রাজনীতিতেই ফিরে আসা জরুরি।’

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডাভিত্তিক এ রকম আরও একটি গোষ্ঠীর উত্থান দেখা যাচ্ছে। বামপন্থী বা ডানপন্থি তকমা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচরণকারী নতুন এই গোষ্ঠীটি বাংলাদেশের জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট পেয়ে  নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মিথ্যা ও গুজবনির্ভর বয়ান প্রচারের নেমেছে। এই গোষ্ঠীর পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে আওয়ামী লীগের মিথ্যা ও ভ্রান্ত বয়ান।’

তিনি আরও বলেন, ‘বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় এবং জামায়াত জোটের দল জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এই দুই আত্মমগ্ন নেতা এই গোষ্ঠীটিরই প্রতিনিধিত্ব করছেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে বিষাক্ত ও কলুষিত করাই তাদের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক সমাজে শিষ্টাচারহীন অসুস্থ আচরণ চলতে পারে না। এখন যারা রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে অবজ্ঞা করছেন, তাদেরও উচিত হবে জনগণের শক্তির বিষয়টি মাথায় রাখা।’