চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে: এবি পার্টি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তার কার্যালয়ে ঢুকে ড্যাবের সদস্যদের দ্বারা মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সমাধান হতে হবে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায়, হামলা, ভয়ভীতি কিংবা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজে টেনেহিঁচড়ে মারধরের ঘটনা ছড়িয়ে পরেছে।
তারা আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তার ঘটনা বারবার সামনে আসছে। গত ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত নারী চিকিৎসক সাকিয়া হককে হেনস্তা ও মারধরের জন্য তেড়ে আসার অভিযোগ ওঠে শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এর আগে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় যুবদল-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, চিকিৎসকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দেন। তাদের কর্মস্থল যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। হাসপাতাল কিংবা সরকারি দপ্তরকে কোনো দলের প্রভাব বিস্তারেট ক্ষেত্র হতে দেওয়া যাবে না।
এবি পার্টির নেতৃদ্বয় অবিলম্বে আইইডিসিআরের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে হামলা-হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের নিরাপত্তা দলীয় আনুগত্যের ওপর নির্ভর করতে পারে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধের বিচার হতে হবে পরিচয়-নির্বিশেষে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা সাধারণ নাগরিক, কেউই যেন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচারহীনতার শিকার না হন, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

