logo

জুলাই সনদের প্রকৃত চেতনা ধরে রাখতে সরকার ব্যর্থ: মিয়া গোলাম পরওয়ার

জুলাই সনদের প্রকৃত চেতনা ধরে রাখতে সরকার ব্যর্থ: মিয়া গোলাম পরওয়ার
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জুলাই সনদের প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, সরকার ও বিএনপি কেউই জুলাই সনদ এবং ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্খাকে ধারন করছে না; কেবল জামায়াতে ইসলামীই রাজপথে থেকে এই সনদ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থান, বিভিন্ন উপদেষ্টার বক্তব্য এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নানা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সাম্প্রতিক বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিসৌধ’ স্থাপন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানানোর পরও তারা উপস্থিত হয়নি বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সত্য নয়। একই সঙ্গে ‘সরকারের বিরোধিতা করলে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে’—এমন বক্তব্যকেও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করে দলটি।

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার করা অসহযোগিতার অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ‘জামায়াত দেশকে পেছনের দিকে নিতে চায়’—এমন মন্তব্যেরও খণ্ডন করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৯৪-৯৫ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার বিঘ্নিত হচ্ছে দাবি করে জামায়াত নেতা বলেন, অতীতে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের মতোই বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নানা অজুহাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনিক সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্বনির্ধারিত সভা-সমাবেশের অনুমতি বাতিলের ঘটনাও ঘটছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের দাবি, বিএনপি গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যদিকে সরকারও এর চেতনা বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা কতজন শহীদের দ্বারে গিয়েছেন? জামায়াত ইতোমধ্যেই প্রায় ১,৪০০ শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং ১০ খণ্ডের একটি প্রামাণ্য সংকলন প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া সংবিধান সংস্কার কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিগত আমলের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়নের সমালোচনা করে জামায়াত। দলটি সতর্ক করে দেয়, ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গঠিত কমিশনকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন কোনো উপায়ে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার বা ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঠেকাতে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে বলেও জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।