‘বাবার পাশে সমাধি দিয়েন’ পোস্টের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেঘমল্লারকে উদ্ধার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সাবেক সভাপতি ও ছাত্রনেতা মেঘমল্লার বসু ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি অস্বাভাবিক নোট শেয়ার করলে তা নিয়ে সবার সন্দেহ হয়।
উদ্ধারের পর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। সেখানে পাকস্থলী ওয়াশ করার বিষয়টি ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা নিশ্চিত করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন সেটি বলতে তারা অস্বীকৃতি জানান।
এর আগে আরও একবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেবারও তাকে উদ্ধার করা হলে তিনি বেঁচে যান।
ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে মেঘমল্লার বসু লিখেছেন, জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হইত। একটা ২০২০ সালের গোড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে, তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।
আরও লিখেছেন, আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মা’র সঙ্গে। আমি জানি, তার আর কেউ নাই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি, আপনাদের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু—এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।
মেঘমল্লার লিখেছেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো, আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয় নাই, যতটা উনি দিসেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভাবসে দোষ উনার। উনি একটা ভিলেনে পরিণত হইছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, আমি উনাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করাইসি, তাতে উনার দশ বার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।
তিনি বলেন, উনি আমার জন্য শুধু করেই গেছেন, কিছুই পান নাই। উনি যে কষ্ট আমার থেকে পাইসেন, তা আর এক ছটাকও বাড়লে আমার অনেক পাপ বাড়বে। এখনও উনি উনার মাকে নিয়ে একটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে আছেন। আমার অবস্থা নিয়ে উনাকে কেউ কিছু বললে বা মনে করলে শুধুই আমার পাপ বাড়বে।
তিনি আরও লিখেছেন, আমার বন্ধুরা, সহযোদ্ধারা—সবার কাছে আমি ঋণী ও পাপী। আমি অবশ্য আমার ব্যক্তিজীবনের প্রোটেকশনটা পাই নাই, আমার রাজনৈতিক পরিসর থেকে। সে সব কথা থাক। আর বলে কী হবে। বাবার ব্যাংকের কী যেন একটা লোন আছে। ওইটা কেউ একটু শোধ করে দিয়েন। হুদাই আমার চিকিৎসা করাইতে গিয়ে টাকা খরচ কইরেন না কেউ। আমারে পারলে বাবার পাশে সমাধি দিয়েন।


