শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ইসলামী ছাত্র মজলিসের ১৩ দাবি

শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে জাতীয় ছাত্র কনভেনশনে এ দাবি জানানো হয়।
ইসলামী ছাত্র মজলিসের ১৩ দাবি হলো-
১. শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে কোরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে।
৩. সেশনজট নিরসন, নিয়োগসহ সব পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ এবং মেধার মূল্যায়ন করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে হল দখল, সিট বাণিজ্য, র্যাগিং কালচারসহ চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে।
৫. শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে শিক্ষা ফি, কাগজ, কলম ও বইসহ সব শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. শিক্ষাখাতে দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।
৮. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস গ্রহণ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করতে হবে।
৯. বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালু করতে হবে।
১০. প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
১১. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে।
১২. বেসরকারি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. পাঠ্যবইয়ে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী লেখা বাতিল করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, শিক্ষাবিদ ও ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।
মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান অর্জন, বিবেক ও চিন্তাশক্তির বিকাশ সাধন এবং এর মাধ্যমে নৈতিক গুণাবলি সম্পন্ন মানবিক ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা। শিক্ষা শুধু পার্থিব কল্যাণ নয়, বরং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশনাও দেয়, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলে। কিন্তু আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় আজ ইসলামি মৌলিক শিক্ষা অনুপস্থিত। এই বহুধারায় বিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অন্যতম অন্তরায়।
তিনি ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা শিক্ষাদাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে কোরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন। ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস গ্রহণ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করুন। আগামী অর্থবছর থেকেই শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। সরকারি নিয়োগসহ সব পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ এবং মেধার মূল্যায়ন করুন। আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করুন।
গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠনের মাধ্যমে গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে। জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের সব পথ রুদ্ধ করতে এবং জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে করতে হবে। আমরা সরকারকে গণরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।


