আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত গণরায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘গণরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। গণভোটের রায় অমান্যকে কেন্দ্র করে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারকেই এর সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে।’
গণরায় উপেক্ষা করে সরকর জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় প্রদান করেছে। কিন্তু সরকার সেই গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধানের সীমিত সংশোধনের পথে অগ্রসর হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
তার মতে, সংবিধান সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে কী কী সুফল পাওয়া যাবে, তা তুলে ধরেন জালালুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের বাধ্যবাধকতা, নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার পথ সুগম হবে।
দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকীর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসান জালালী, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।