প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ যুবদল নেতার

এশিয়া পোস্টে গত ১৪ জুন ‘জিসানের নির্দেশে পলাশকে গুলি, মিশনে নামা ৬ জনের পরিচয় প্রকাশ’ শিরোনামে এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এই সংবাদের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এন এম আব্দুল্লাহ্ উজ্জ্বল।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) এশিয়া পোস্টের কাছে পাঠানো প্রতিবাদে বলা হয়, ‘সম্প্রতি ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা ৪৯ মিনিটে অনলাইন সংবাদমাধ্যম Asia Post-এ প্রকাশিত রাজধানীর রামপুরায় ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা’ পলাশকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আমার নাম উল্লেখ করে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগত অসঙ্গতিপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।’
‘প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়েছে যে, “ক্যাসিনো নাদিম মূলত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের মগবাজার শাখার নিয়ন্ত্রণকারী। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক ভিপি উজ্জল জিসানের বন্ধু, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং তাদের শেল্টারদাতা বলে পরিচিত।”’
‘এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার সঙ্গে উল্লিখিত ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অপরাধী চক্র, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বা আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সম্পর্ক অতীতে ছিল না, বর্তমানেও নেই। সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য, নথি, বিচারিক রেকর্ড বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এ ধরনের দাবি সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
‘আমি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আমি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
এ ছাড়া রাজনৈতিক জীবনে এন এম আব্দুল্লাহ্ উজ্জ্বল যেসব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে—সহসাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি; সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি; সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি ছিলেন তিনি।
প্রতিবাদে উজ্জ্বল বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে রমনা, মগবাজার, বেইলি রোড, ইস্কাটন ও মিন্টো রোডসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রোষানলের শিকার হয়েছি, হামলা-মামলা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হয়েছি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে এবং আমার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যও সেই ধারাবাহিক অপপ্রচারেরই অংশ বলে আমি মনে করি।’
‘একজন রাজনৈতিক কর্মী ও দায়িত্বশীল সংগঠক হিসেবে আমি সব সময় আইন, গণতন্ত্র এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। কোনো অপরাধী চক্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মানহানিকর ‘
‘আমি এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে, উক্ত প্রতিবেদনে আমার সম্পর্কে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও মানহানিকর তথ্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশোধনী প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি। সত্য ও ন্যায়ের স্বার্থে আমি প্রয়োজনে আইনি ও সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করার অধিকার সংরক্ষণ করছি।’
