logo
Advertisement

আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা কম নয়: ইসলামী মহিলা মজলিস

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা কম নয়: ইসলামী মহিলা মজলিস
‘আদর্শ সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ইসলামী মহিলা মজলিসের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার তোপখানা রোডের ডিসিসি হলে। ছবি: সংগঠন সৌজন্যে

আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে নারীদের ভূমিকা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী মহিলা মজলিসের নেতারা। তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মুসলিম নারীরা ইসলামি সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারা জ্ঞানচর্চা, হিজরত, যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ছিলেন।

Advertisement

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর তোপখানা রোডের ডিসিসি হলে বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিসের উদ্যোগে ‘আদর্শ সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তারা।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নাসরিন কাদেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রায়হানা মালিক লোপার পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উম্মে মাহদী।

সভায় নেতারা বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) দেড় হাজার বছর আগে মদিনায় ইনসাফ, মানবাধিকার, সুশাসন, শিক্ষা ও নৈতিক উৎকর্ষতার যে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন, তা বিশ্ববাসীর জন্য আজও সবচেয়ে বেশি অনুকরণীয়। সেখানে বর্ণ, গোত্র বা সামাজিক পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সমাজে সব মানুষের সমান অধিকার ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা কায়েম করেন। শাসক বা প্রশাসকদের জন্য জনকল্যাণ, নম্রতা ও ইনসাফকে বাধ্যতামূলক করেন। ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের মধ্যে নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করেন।

তারা বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) দাস-দাসী ও অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণ করার নির্দেশ দেন এবং তাদের মুক্ত করা ও কাজের চাপ কমানোর প্রতি বিশেষ জোর দেন। তিনি নারীর সম্মানজনক অধিকার ও পারিবারিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সমাজে কোরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে এবং জ্ঞান অর্জনকে সর্বস্তরে গুরুত্ব দেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীরা যুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন জানিয়ে তারা বলেন, নুসাইবা বিনত কাব ওহুদের যুদ্ধে নবীজিকে রক্ষা করতে গিয়ে ১২টি ক্ষত সহ্য করেছিলেন। আসমা বিনত উমাইস, উম্মে সালিম, আল-রুবাইয়ি বিনতে মুআওয়াজ এবং রুফাইদা আল-আনসারিয়ার মতো নারীরা যুদ্ধে আহতদের সেবা করতেন। একজন নারী খলিফা উমর (রা.)-এর মজলিসে তার মোহর সম্পর্কিত ভুল বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং কোরআনের আয়াত সুরা নিসার ২০ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে তাকে সংশোধন করেন। উমর বলেছিলেন, ‘একজন নারী ওমরের সঙ্গে তর্ক করে তাকে পরাজিত করেছে!’

একটি আদর্শ ‍ও সুখী পরিবার গঠনে নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে নারী নেতারা বলেন, মা হিসেবে একজন নারী হলেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, নৈতিকতার আধার এবং একটি সুস্থ পরিবারের মূল ভিত্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনবর্গ এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারী।