২৪ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ শিবির নেতা জিসান, জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঢাকা থেকে দাউদকান্দি আসেন জিসান প্রধান। মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষ করে উপজেলার বীরবাগগোয়ালী গ্রামে তার নিজের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হলেও তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি। তার হোয়াটসঅ্যাপে সর্বশেষ কার্যক্রম (লাস্ট সিন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটে দেখা গেছে। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং ফেসবুক আইডিটিও ডিঅ্যাক্টিভেট পাওয়া গেছে। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও প্রথম দিকে কোনো সন্ধান না মেলায় জিসানের বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান আহমেদ অপহৃত হয়েছেন। ১৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরও তিনি উদ্ধার না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?
জামায়াত আমির অবিলম্বে জিসান আহমেদকে উদ্ধার করে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
জিসানের বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে জিসানের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু এশার নামাজের পর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাই। তার ফেসবুক আইডিটিও ডিঅ্যাক্টিভেট করে রাখা হয়েছে। আমি থানায় ডায়েরি করেছি। প্রশাসন এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, জিসান নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে কোনো ফল না পাওয়ায় আজ ভোরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় থানায় যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় তারা পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলেও পুলিশ দায়সারা আচরণ করে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। ঘটনার ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় (বক্তব্য নেওয়ার সময় এ হিসাব) অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত জিসানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে এবং যে ফোন নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে, সেটিও এখনও সক্রিয় রয়েছে। অপহরণকারীদের ফোন নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, পুলিশের আইজিপি ও র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে দাউদকান্দি উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান আরিফও প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল বারী জানান, নিখোঁজ জিসান প্রধানের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আশা করা যাচ্ছে দ্রুত তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।



