ইতালির মাটিতে শাকসবজি চাষে বাংলাদেশিদের বাজিমাত!

একসময় প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের তাজা শাকসবজি পাওয়া ছিল কল্পনাতীত। তবে গত দেড় দশকে ইতালির প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাত ধরে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
রোম, মিলানো, নাপোলি কিংবা ভেনিস—ইতালির বিভিন্ন শহরে জমি ইজারা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে লাউ, করলা, ঢেঁড়স ও পুঁইশাকের মতো দেশি সবজির আবাদ করছেন প্রবাসী উদ্যোক্তারা। এর ফলে প্রবাসীরা যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে টাটকা দেশি সবজি পাচ্ছেন, তেমনি ইতালির গণ্ডি পেরিয়ে এসব সবজি এখন ইউরোপের অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

এমনকি ইতালীয় জলবায়ুতে বাংলাদেশি সবজির পুষ্টিগুণ ও ফলন নিয়ে স্থানীয় গবেষক দত্তোরেচ্ছা এলিজার করা গবেষণা স্থান পেয়েছে বিশ্বখ্যাত ভেনিস বিয়েন্নালেতেও।
ইতালি সরকার প্রতিবছরই কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং মৌসুমি শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ দেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সরকার ও ইতালি মিশন যদি দেশটির কৃষি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নত বীজ, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, তবে ইউরোপের এই মাটিতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কৃষিশ্রমিক পাঠানোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিজ্ঞজনরা।
ইতালি প্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিস্ট পলাশ রহমান বলেন, প্রথমদিকে বাংলাদেশিরা শখের বসে করলেও পরবর্তীতে তারা বাণিজ্যিকভাবে এটি শুরু করেন। বর্তমানে অনেক এলাকায় শত শত হেক্টরজুড়ে সবজি চাষ করছেন বাংলাদেশিরা। এটিকে বাংলাদেশি সবজি চাষের এ বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ইতালি সরকার। তাই দু’দেশের ফুড কালচার নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে ইতালির কৃষি খাতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইতালিতে ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআরসির পরিচালক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রিতু মিয়া বলেন, ইতালির মাটিতে বাংলাদেশিদের সবজি চাষের ঘটনা সরকারের সুনজরে রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কৃষি শ্রমিক রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন। রিতু মিয়ার মতে, এ ব্যাপারে দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
পরবাসে ঘাম ঝরিয়ে দেশি সবজি ফলিয়ে চলা এই প্রবাসীরা কেবল কৃষিকাজই করছেন না, বিদেশের মাটিতে উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের নাম।

