logo
Advertisement

জার্মানিতে যে কারণে বাতিল হবে সুরক্ষা মর্যাদা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জার্মানিতে যে কারণে বাতিল হবে সুরক্ষা মর্যাদা
ছবি : সংগৃহীত

জার্মানিতে এমন কাউকে সহায়ক সুরক্ষা বা আশ্রয় দেওয়া হবে না, যিনি বারবার আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং জনসাধারণের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারেন। জার্মানির লাইপসিশের ফেডারেল প্রশাসনিক আদালত এ ঘোষণা দেন।

Advertisement

সম্প্রতি এক শরণার্থীকে সুরক্ষা মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করেছেন আদালত। ওই ব্যক্তি বারবার আইন লঙ্ঘন করার কারণে জনসাধারণের ঝুঁকির কারণ হয়ে ওঠেন বলে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ফেডারেল প্রশাসনিক আদালত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘আশ্রয় আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো অনুযায়ী, যদি এমন বড় কোনো কারণ থাকে, যাতে ওই বিদেশি নাগরিক জনসাধারণের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তাকে সহায়ক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হবে।’

মর্যাদা হারানো ওই শরণার্থী সিরীয় নাগরিক। ২০১৭ সালের জুনে জার্মানি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, একাধিক অপরাধমূলক কাজ করেছেন তিনি। ১০টিরও বেশি মামলায় তাকে জরিমানা এবং কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ফেডারেল মাইগ্রেশন ও শরণার্থী অফিস (বিএএমএফ) তার সহায়ক সুরক্ষা মর্যাদার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

আশ্রয় ও শরণার্থী সুরক্ষার বিভিন্ন রূপ

জার্মানিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) অনুযায়ী, এ দেশে নানা ধরনের আশ্রয় সুরক্ষা দেওয়া হয়, যার নিজস্ব মানদণ্ড ও অধিকার রয়েছে।

ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস (বিএএমএফ) একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসারে নির্ধারণ করে, কোন আবেদনকারীর জন্য এর মধ্যে কোন নির্দিষ্ট সুরক্ষাগুলো প্রযোজ্য, এই সিদ্ধান্ত আবেদনকারীর দেশে ফিরে যাওয়ার অযোগ্যতার কারণের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়।

সহায়ক সুরক্ষার অর্থ হলো, আবেদনকারী ‘রাজনৈতিক নির্যাতন সংক্রান্ত হুমকির মুখে না পড়লেও তার মাতৃভূমিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।’

জার্মানিতে সহায়ক সুরক্ষার আওতায় একজন শরণার্থীর বাসস্থানের অনুমতি পাওয়ার অধিকার থাকে, যা তাকে অন্তত এক বছর দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দেয়। যদি আবেদনকারীর মাতৃভূমির পরিস্থিতি এই সময়ের মধ্যে উন্নত না হয়, তাহলে বাসস্থানের অনুমতি আরও দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে।

জার্মানিতে সিরীয়রা

জার্মানিতে সিরীয়রা অন্যতম বৃহত্তম অভিবাসী গোষ্ঠী। ২০১১ সালে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লাখো সিরীয় নাগরিক তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান, ইরাক ও মিসরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে জার্মানিতে আশ্রয় আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি সিরীয় নাগরিক।

জার্মানির ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের মতে, ২০২৩ সালের শেষে জার্মানিতে প্রায় ৯ লাখ ৭৩ হাজার সিরীয় বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ১২ হাজার জনকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।

তাদের মধ্যে রয়েছেন আবেদন মুলতবি রয়েছে, এমন শরণার্থীরা এবং যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও, মানবিক কারণে অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, এমন শরণার্থীরা।

সূত্র: ইনফোমাইগ্র্যান্টস