লিবিয়ায় মানবপাচারের নৌকা তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ

উন্নত জীবনের খোঁজে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবু থেমে নেই এমন যাত্রা। এর মধ্যে লিবিয়ার বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে মানবপাচার করে যাচ্ছে।
এবার লিবিয়ার ত্রিপোলির তাজুরা এলাকায় মানবপাচারের জন্য ব্যবহারযোগ্য নৌকা নির্মাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি গোপন কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ত্রিপোলির অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী সংস্থার তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ বিভাগ এই অভিযান চালায়।
দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই জায়গাকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য জাহাজ প্রস্তুতকারক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর অভিযান চালিয়ে এটি ধ্বংস করে তারা।
নিরাপত্তা বাহিনী অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী প্রসিকিউশন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কেন্দ্রে তল্লাশি চালিয়েছে। সেখানে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পাচারের জন্য ব্যবহার করা হবে, এমন নৌকা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালও জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
এই মামলা পাবলিক প্রসিকিউশন অফিসে পাঠানো হয়েছে। একজন সরকারি কৌঁসুলি তাদের হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন৷
জব্দ করা সব সরঞ্জাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই কেন্দ্রটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) লিবিয়ার সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যাতে দেশটির মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কমানো যায়।
২০১৫ সাল থেকে লিবিয়াকে ৭০ কোটি ইউরো (৮২৪ মিলিয়ন ডলার) দেওয়া হয়েছে, যার বেশির ভাগই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র : ইনফোমাইগ্র্যান্টস
