জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের নতুন কমিটির অভিষেক

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পূর্ব লন্ডনের রিজেন্ট লেক ব্যাংকুয়েটিং হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমেদ শাহীন ও যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল অদুদ দিপকের যৌথ সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করে সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ছোটন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মনসুর আহমেদ শাওন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমেদ, ইউকে বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত এম. হোসাইন এমবিই, কমিউনিটি নেতা সাংবাদিক কে. এম. আবু তাহের চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওলি খান, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সৈয়দ নাহাস পাশা, কমিউনিটি নেতা এম. এ. মুনিম ওবিই, ব্যারিস্টার মাসুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান, ক্রয়ডনের সাবেক মেয়র শেরওয়ান চৌধুরী ও সাংবাদিক মাহবুব রহমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তাইসির মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, বিএসিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিঠু চৌধুরী, আশিকুর রহমান ও রফিকুল হায়দারসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন প্রজন্মকে যদি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে তাদের সম্ভাবনাময় অবদান থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হতে পারে।
তিনি বলেন, ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্মই আগামী দিনের সেতুবন্ধন। তাদের বাংলাদেশের সঙ্গে, দেশের মানুষের সঙ্গে এবং নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। প্রবাসীদের সন্তানদের যদি আমরা দেশের প্রতি, শেকড়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে না পারি, তাহলে দেশের উন্নয়নে তাদের যে সম্ভাবনাময় অবদান, বাংলাদেশ তা থেকে বঞ্চিত হবে।
ড. নজরুল ইসলাম আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি কমিউনিটি সংগঠনগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত জালালাবাদ অঞ্চলের প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দেশের নিজ নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
নতুন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল মকদ্দুছ, সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম মামুন, কোষাধ্যক্ষ মো. শামীম আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়জুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার আহমেদ, সহ-সভাপতি আবদুল সুফান, সহসভাপতি সাইফুল আলম লিখন, আব্দুল মুকিত, সাইফ আহমেদ সুইট, গয়াছুর রহমান ও নজরুল ইসলাম।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠান শেষে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। পরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
