logo

রোমে যাত্রা শুরু করল আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের পরামর্শ পরিষদ

ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি
রোমে যাত্রা শুরু করল আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের পরামর্শ পরিষদ
রোমে যাত্রা শুরু করেছে ‘আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ’। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ইতালির রোম মহানগর এলাকায় বিদেশি অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ’ (Consulta Permanente della Convivenza Interculturale)।

সম্প্রতি রাজধানী রোমের মেট্রোপলিটন কার্যালয়ে (Istituzionale della Città Metropolitana di Roma Capitale) পরিষদটির প্রথম উন্মুক্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রোম সিটি কাউন্সিলের সভাপতি স্বেতলানা চেল্লি, মহানগর কাউন্সিলর তিজিয়ানা বিয়োলঘিনি, জাতীয় বর্ণবৈষম্য বিরোধী কার্যালয়ের (UNAR) পরিচালক মাত্তিয়া পেরাদোত্তোসহ বিভিন্ন কর্মদলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৭৫টি সংগঠন ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ পরিষদ গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪টি নিবন্ধিত সংগঠন এবং রোম ক্যাপিটালে প্রশাসন। এই প্ল্যাটফর্মে স্থান পেয়েছে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের ৭টি নিবন্ধিত সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন।

সংগঠনগুলো হলো, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন, অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস), ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব রোম, মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার, অ্যাসোসিয়েশন কলতুরালে ইসলামিকা দেল, বাংলাদেশ আল আকসা, উলামা কাউন্সিল অব ইতালি, সঞ্চারী সঙ্গীতায়ন, সর্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির।

অধিবেশনে রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি বলেন, "রোমকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সংলাপ ও সরাসরি নাগরিক অংশগ্রহণের স্থায়ী মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে এই পরিষদ।

কাউন্সিলর তিজিয়ানা বিয়োলঘিনি জানান, অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং শহরের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, শিশু অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করবে এই স্থায়ী পরিষদ। এর মাধ্যমে রোম মহানগরে বসবাসরত ৬ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।