থাইল্যান্ডে রিসোর্ট থেকে মালয়েশিয়াগামী ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সোংখলার চানা জেলার একটি রিসোর্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ ২২ জন অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন ও পুলিশ বাহিনী। উদ্ধার অপর ব্যক্তি মিয়ানমারের নাগরিক। এ সময় এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের গণমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসীদের সেখান থাকার জন্য পাঠানো হয়েছে। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অপেক্ষায় আছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় না থাব এলাকার ওই রিসোর্টে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। সংখলার ইমিগ্রেশন পুলিশের প্রধান কর্নেল সোরাথাত ইয়ামলা-অরের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে।
তিনি জানান, অভিযান পরিচালনার সময় রিসোর্টটি বন্ধ ছিল। কিন্তু ভেতর থেকে বিদেশি ভাষায় কথোপকথনের শব্দ পান নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। পরে একটি পরিত্যক্ত ভবনের প্রবেশপথের ক্যানভাস সরিয়ে দেখা যায়, একটি সরু সুড়ঙ্গের শেষে অন্ধকার কামরায় অত্যন্ত ঘিঞ্জি অবস্থায় ওই ২২ জনকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
আটকের পর অবৈধ অভিবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, রিসোর্টের মালিক তাদের মোবাইল ফোনগুলো কেড়ে নিয়েছেন। যদিও প্রথমে মালিক বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন কিন্তু পরে তার শোবার ঘরে বিছানার নিচে লুকানো দুটি বাক্স থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই রিসোর্টের মালিক ৬৬ বছর বয়সী কৃতিদেতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। যদিও এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন রিসোর্টের মালিক।
তার দাবি, পাচারকারীরা হয়তো তার অনুপস্থিতিতে ঘর খোলা পেয়ে সেখানে ফোনগুলো রেখে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আটক রাখা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিবাসীরা দোভাষীর মাধ্যমে পুলিশকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য তারা জনপ্রতি প্রায় সাত লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের ২২ নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। সব সন্দেহভাজন এবং উদ্ধার করা অভিবাসীদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সোংখলা ইমিগ্রেশন অফিসে রাখা হয়েছে। এদিকে চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে থাই কর্তৃপক্ষ।