রাশিয়ার ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের যুব প্রতিনিধি দল

রাশিয়ায় চলমান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ৭০ জন তরুণ-তরুণী। বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি ও নেতৃত্বের সাথে পরিচিত হচ্ছেন তারা। অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের দর্শনে সম্ভাবনাময় এক স্মৃতি তৈরি করছেন তারা। আর নতুন এই সম্ভাবনায় নিজেদের সামনে স্বপ্নপূরণের হাতছানি দেখছেন বাংলাদেশের যুব প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশটির ইকাতেরিনবার্গ শহরের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয়েছে এই ফেস্টিভ্যাল। যুব প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই অনুষ্ঠান স্থলে সমবেত হয়েছেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, নেতৃত্বস্থানীয় পেশাজীবী ও মেন্টর, নীতিনির্ধারক, গবেষক, প্রশিক্ষক, বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তা সহ আরও অনেকে। তাদের সাথে সাক্ষাতের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব, নেটওয়ার্কিং সেশন, খেলাধূলা, বাস্তবিক অনুশীলনের মতো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী তরুণ তরুণীরা। এসবের মাঝে নিজেদের স্বপ্নপূরণের পথ খুঁজছেন তারা।
বাংলাদেশের জেডএনআরএফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া মীম এশিয়া পোস্টকে বলেন, “এশিয়া পোস্টের এক সংবাদে এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি। সেখান থেকে বিস্তারিত জেনে ফেস্টিভ্যালের ওয়েবসাইটে আবেদন করি। পরবর্তীতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আংশিক তহবিল সহায়তা সহ ফেস্টিভ্যালে আসার আমন্ত্রণ পাই। এখানে আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় হাতেখলমে শেখানো হচ্ছে। টেড টক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ হচ্ছে, অনেকের সাথে পরিচয় হচ্ছে। তাদের সাথে আইডিয়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হচ্ছে। এই বিনিময় থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় সম্ভাব্য সমাধানের পথ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমার নিজের বিকাশ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবো”।
জান্নাতুল মীম আরও বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে বলবো যে, এ ধরনের আয়োজনে সবার অংশ নেওয়া উচিত। এটা আসলে বড় সুযোগ যেখানে সকল খরচ আয়োজকরা দিচ্ছে, আপনাকে শুধু এখান থেকে কিছু অর্জন করে নিতে হবে। যেমন আমি যেন এখান থেকে সর্বোচ্চটা নিয়ে যেতে পারি। আমি যেন আমার দেশের জন্য কিছু একটা করতে পারি, দেশের উন্নয়নের জন্য এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য”।
চীনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সোহেল হোসাইন ফেস্টিভ্যালে নিজের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, “এখানে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম যেমন এক্সিবিশন, খেলাধূলা, সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অংশ নিচ্ছি। অনুষ্ঠান স্থলের বিভিন্ন জায়গা মহাদেশ ও অঞ্চলের আদলে সাজানো হয়েছে। সেগুলোতে স্ব স্ব সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো ঘুরে দেখছি, সেসব অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সাথে পরিচিত হচ্ছি এবং ভবিষ্যত যোগাযোগের সূচনা করছি। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন নতুন উদ্ভাবন দেখছি”।
পেশাদার বাইক স্টান্ট রাইডার ও স্পোর্টস কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুর রাহিম নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “আমি একজন পেশাদার স্পোর্টসম্যান, মোটরবাইক স্টান্ট করি। এখানে ১৯১টি দেশ থেকে যে খেলোয়াড়রা এসেছেন, তাদের অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে। তাদের সাথে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। এই বিনিময়ের মাধ্যমে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সামনে তুলে ধরতে পারবো”।
রাশিয়ার মস্কোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আল ইমরান নয়ন বলেন, “এই ইভেন্টে রাশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আমরাও বাংলাদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরছি। পাশাপাশি এখানে আসা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে মত বিনিময় ও যোগাযোগ স্থাপন করছি”।
রাশিয়ার আরইউডিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাদা তুদ দিনিয়াত বলেন, “বিশ্বের এতগুলো দেশ থেকে আসা অতিথিদের সাথে দেখা করা, অনুভূতির আদান প্রদান করা অনেক বড় বিষয়। ১০ হাজার প্রতিনিধির মধ্যে নিজেকে পাওয়ার মধ্যে বেশ গর্বিত বোধ করছি। এগুলো আমাদের শিক্ষাজীবন এবং সর্বোপরি কর্মজীবনে সহায়তা করবে”।

