logo
Advertisement

মিশরে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণের দায়ে তিন বাংলাদেশির কারাদণ্ড

আফছার হোসাইন,মিশর
মিশরে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণের দায়ে তিন বাংলাদেশির কারাদণ্ড
মূলহোতা দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলাউদ্দিন (মূসা)

মিশরে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে তিন বাংলাদেশিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বিচারিক প্রক্রিয়াশেষে দেশটির একটি আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আলাউদ্দিন মুসা (৩২), পিতা মো. জাহের ভূঁইয়া; সুনামগঞ্জের মো. আজাদ মিয়া (৩৬), পিতা আব্দুল বারিক এবং সোলায়মান নূর (২৯), পিতা নূর হোসেন।

Advertisement

জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বাংলাদেশিকে কায়রোর গিজা জেলার বুলাখ আল-ডাকরুর এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সেই ভিডিও ধারণ করে তা বাংলাদেশে থাকা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে আট লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহৃত দুই ভুক্তভোগী
অপহৃত দুই ভুক্তভোগী

নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ভিডিওর সূত্র ধরে ৯ জুলাই মধ্যরাতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কয়েকজন প্রবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অপহৃত দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

যে বাড়িটিতে দু’জনকে আটক রাখা হয়েছিলো এক পর্যায়ে সেই বাড়িটির সন্ধান তারা। তবে, দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকির পরও বাড়ির দরজা না খোলায় একপর্যায়ে বাইরে জড়ো হওয়া প্রবাসীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু এতে ওই বাড়ির মালিক আপত্তি জানান। এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও হৈচৈ দেখে আশপাশের বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।

একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণের অভিযোগে আটক করা হয় তিন বাংলাদেশিকে। পরে, অপহৃত দুই বাংলাদেশি মিশরে অবৈধভাবে বসবাস করায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তবে অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিন আসামিকেই পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সরকারি কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।