মিশরের আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠান

বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির আবহে মিশরের ঐতিহ্যবাহী আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় বৈচিত্র্যময় এক আন্তর্জাতিক মিলনমেলায়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ উৎসবমুখর আয়োজনে উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগান মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুজাতিক ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস সংস্কৃতিকে উদযাপন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরাও এতে অংশ নেন।
আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশ, ভারত, সৌদি আরব, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ সুদান ও সুদানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশের লাল-সবুজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যও সেখানে বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও ছাত্রসংগঠন তাদের বছরব্যাপী উদ্ভাবন, গবেষণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র প্রদর্শন করে।
আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও উৎসাহ তাদের শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের এ নবীন বরণ অনুষ্ঠান শুধু নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক বিনিময়, সম্প্রীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে আসে।
