ফতোয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা আমিরাতের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফতোয়া পরিষদ ব্যক্তিগত ফতোয়া প্রদানের লাইসেন্স ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘনকারী একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির জনসাধারণকে স্বীকৃত জাতীয় ফতোয়া প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই ধর্মীয় নির্দেশনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিষদ জানিয়েছে, লাইসেন্সবিহীনভাবে অনলাইন মাধ্যম পরিচালনাকারীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র ছাড়া ফতোয়া ও ধর্মীয় বিধান প্রদান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফতোয়া পরিষদ সম্পর্কিত ২০২৪ সালের ফেডারেল আইন নং-৩ অনুযায়ী, এ ধরনের লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে, যা পুনরাবৃত্তি ঘটলে দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পরিষদ বা দেশের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা যে কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান আইনত নিষিদ্ধ। এর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে এমন ফতোয়া জারি করা এবং পরিষদ কর্তৃক জারিকৃত ফতোয়াকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ বা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাও আইনের আওতায় নিষিদ্ধ।
তবে লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বা তাদের প্রদত্ত ফতোয়ার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি পরিষদ। এতে বলা হয়, নিয়ম লঙ্ঘন করে ফতোয়া প্রকাশকারী যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ।
পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নজরদারি ও অনুসরণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য ফতোয়ার শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, আইন মান্যতা উৎসাহিত করা, জাতীয় ধর্মীয় কর্তৃত্বকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সমাজকে অনিয়ন্ত্রিত ফতোয়া চর্চা থেকে রক্ষা করা।’
দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে—ইবাদত, পারিবারিক বিষয়, আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন প্রশ্নে দিকনির্দেশনার জন্য মুসলমানরা সময়ে সময়ে ফতোয়ার সন্ধান করে থাকেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাসিন্দারা সরকারি ওয়েবসাইট, সরাসরি পরামর্শ, অনলাইন আবেদন, ফোন সেবা এবং মসজিদ ও সেমিনারে আয়োজিত অধিবেশনের মাধ্যমে ফতোয়া পরিষদ থেকে স্বীকৃত ধর্মীয় নির্দেশনা নিতে পারেন।



