আরব আমিরাতে সোনার বড় দরপতন

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবারও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারেও।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম নেমে এসেছে প্রতি গ্রামে ৫০৫ দশমিক ৫০ দিরহামে। আগের দিন রোববার এই দাম ছিল ৫১৬ দশমিক ৫০ দিরহাম। অর্থাৎ একদিনে দাম কমেছে ১১ দিরহাম।
দুবাই সিটি অব গোল্ডের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আমিরাতে অন্যান্য মানের সোনার দাম প্রতি গ্রামে: ২২ ক্যারেট: ৪৬৮ দিরহাম,২১ ক্যারেট: ৪৪৮ দশমিক ৭৫ দিরহাম, ১৮ ক্যারেট: ৩৮৪ দশমিক ৭৫ দিরহাম ১৪ ক্যারেট: ৩০০ দিরহাম
আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র পতন
ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্সের দাম নেমেছে ৪ হাজার ২০৬ ডলারের নিচে। এর আগের সপ্তাহেও সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের দাম চড়া রয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারের ধারণা। সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে, কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
হরমুজ নিয়ে অচলাবস্থা
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আবার খোলার শর্তে তারা নমনীয়তা দেখাবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেছেন, এ সপ্তাহে আলোচনা আবার শুরু হবে বলে আশা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে। এ বছর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি।
সেপ্টেম্বরে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ২৩০ থেকে ৪ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে ঘুরেছে। জানুয়ারিতে দাম উঠেছিল প্রায় ৫ হাজার ৬০০ ডলারের সর্বকালের রেকর্ড উচ্চতায়। সেই তুলনায় বর্তমান দাম অনেক নিচে। আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই দেশে পাঠানোর জন্য বা বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কেনেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের গতিপথ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা থাকতে পারে। তাই কেনাবেচার আগে দৈনিক দর যাচাই করা ভালো।
