logo

সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের মধ্যে একই পরিবারের ৪ জন

রফিক চৌধুরী, জেদ্দা
সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের মধ্যে একই পরিবারের ৪ জন
জিয়াউর রহমান ও তার তিন ছেলে। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা থেকে জেয়ারা শেষে জেদ্দায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আল আবীর কোল্ড স্টোরস ট্রেডিং কোম্পানির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান এবং তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতরা সবাই আল আবীর কোল্ড স্টোরস ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মোট ১৩ জন বাংলাদেশি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদিনায় গিয়েছিলেন। জিয়ারত শেষে জেদ্দায় ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বা দুর্ঘটনার পর সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাকি ছয়জন গুরুতর আহত হন।

একই দুর্ঘটনায় কোম্পানির ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী এবং মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সি কন্যাশিশুও প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় হিসেবে যাদের নাম ও সম্পর্ক জানা গেছে, তারা হলেন—জিয়াউর রহমান (স্টোরকিপার), তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে, ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী এবং স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সি কন্যাশিশু। নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ছয়জনকে সৌদি পুলিশ উদ্ধার করে মদিনার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ মদিনার সরকারি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে কী কারণে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। এ জন্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা।

কনস্যুলেট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেট।