ফেরাউন যে স্বপ্নের কাহিনি পাথরে খোদাই করে রেখেছিলেন

চতুর্থ থুতমোস যখন যুবরাজ ছিলেন, তখন একদিন গীজার গ্রেট স্ফিংস এর কাছে বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। স্ফিংস হলো মিশরের পৌরাণিক ইতিহাসের চুনাপাথরের তৈরি এক বিশাল মূর্তি, যার শরীর হলো সিংহের আকৃতির এবং মাথাটা মানুষের মতো। যুবরাজ থুতমোস গ্রেট স্ফিংসের কাছে যখন ঘুমাচ্ছিলেন, সে সময় স্ফিংসের দেহের অনেকটাই বালুর নিচে চাপা পড়ে ছিল।
থুতমোস ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখেন, স্ফিংস তাকে বলছে যে, যদি তিনি তার(স্ফিংসের) শরীরের ওপর জমে থাকা বালু সরিয়ে তাকে উন্মুক্ত করেন, তবে একদিন তিনি মিশরের রাজা হবেন। চতুর্থ থুতমোস পরবর্তী সময়ে সত্যিই মিশরের ফারাও রাজা হন। তাঁর রাজত্বকাল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০১ থেকে ১৩৯১ অব্দের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

নিজের স্বপ্নের কাহিনি স্মরণীয় করে রাখতে একটি পাথরে খোদাই করে লিখে রাখেন থুতমোস। এরপর সেই পাথর তিনি স্ফিংসের দুই থাবার মাঝখানে স্থাপন করেন বলে শিলালিপি থেকে জানা যায়। প্রাচীন এই পাথরটি ‘ড্রিম স্টেলা’ (Dream Stela) বা ‘স্বপ্নফলক’ নামে পরিচিত।
মিশরের মাটিতে প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠালের চারা রোপণ
ইতিহাসের বুকে টিকে আছে স্বপ্নের কাহিনি
যদিও চতুর্থ থুতমোস সত্যিই এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় নেই। তবে স্বপ্নের এই বিবরণ পাথরে খোদাই করে রাখার কারণে তা হাজার হাজার বছর পরও ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
প্রাচীন মিশরের রাজতন্ত্র, ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজকীয় বৈধতার ধারণা বুঝতে ‘ড্রিম স্টেলা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মাধ্যমে জানা যায়, প্রাচীন মিশরে দেবতা, স্বপ্ন ও রাজক্ষমতার সম্পর্ককে কীভাবে উপস্থাপন করা হতো।
সাগরে নৌযান বিকল, মিশর উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৫৪ জন উদ্ধার
গিজার মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা স্ফিংস তাই কেবল একটি বিশাল প্রাচীন ভাস্কর্য নয়; এর দুই থাবার মাঝখানে থাকা পাথরটিও বহন করছে হাজার বছরের ইতিহাস, বিশ্বাস ও রহস্যের গল্প।
মিশরের গিজা পিরামিড চত্বরে অবস্থিত প্রাচীন স্ফিংসের মূর্তি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো পর্যটক। বেশির ভাগ দর্শনার্থীর দৃষ্টি থাকে স্ফিংসের বিশাল মুখ মণ্ডলের দিকে। তবে এর সামনের দুই থাবার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বড় পাথরটির দিকে কি কখনো নজর দিয়েছেন? তিন হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে থাকা এই পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন মিশরের এক কৌতূহলোদ্দীপক কাহিনি।