গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মালদ্বীপে ৫ বাংলাদেশি নিহত

মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দেশটির ধিগুরা আইল্যান্ডের একটি নির্মাণাধীন কোম্পানির লেবার কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় শোক জানিয়ে হাইকমিশনের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে নিহতদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন—তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। আর আহত দুজন হলেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন।
মালদ্বীপভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সান নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে রাত ২টার দিকে স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার খবর পায়। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে মোট আট আহতকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য ধিগুরাহ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তারা বাংলাদেশি। এছাড়া দগ্ধ দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালে-তে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ধিগুরাহ কাউন্সিল সভাপতি ইব্রাহিম উসমান সান নিউজকে জানিয়েছেন, আবাসন এলাকায় গ্যাস লিক হওয়ার কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এলাকাটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ওই ভবনে কতজন প্রবাসী শ্রমিক বসবাস করতেন বা কোন কোম্পানি এই আবাসন সুবিধাটি পরিচালনা করত তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনা তদন্তের জন্য একজন চিকিৎসকসহ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ধিগুরাহ-তে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেহরি খাওয়ার জন্য রান্না করতে গেলে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় লেবার কোয়ার্টারে ৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ৭ জন গুরুতর অগ্নিদ্বগ্ধ হয়। এসময় বাকিরা অন্য রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর আসে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ জানান, ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিতে বর্তমানে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল ওই দ্বীপে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে যারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।