সার্বিয়ায় শ্রমিক সংকট, চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কর্মী

ইউরোপের নন-শেনজেন দেশ সার্বিয়ায় শ্রমিক সংকট বাড়ছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে বিদেশি কর্মীর সংখ্যাও বাড়ছে। নির্মাণ, পরিবহন, ট্যুরিজম ও উৎপাদন খাতে স্থানীয় কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সার্বিয়ার শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক দপ্তরের ‘মাইগ্রেশন প্রোফাইল ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে বসবাসকারী বিদেশির সংখ্যা ছিল ৬৪ হাজার ৬৭২ জন। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৪৭ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন রাশিয়ার নাগরিক, যা মোট বিদেশি কর্মীর ৩৫.৫ শতাংশ। এরপর চীনের নাগরিক ১৯.১ শতাংশ, ভারতের ১০.৭ শতাংশ, তুরস্কের ৯.১ শতাংশ এবং নেপালের ৪.২ শতাংশ।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিয়ায় অভিবাসনের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন এখন শ্রম অভিবাসন। বিদেশি কর্মীদের বড় অংশ অস্থায়ী বসবাস ও কাজের একক অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে দেশটিতে অবস্থান করছেন।
২০২৫ সালের শেষে থাকা বিদেশি কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ চাকরির চুক্তি বা কর্মসংস্থান চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছিলেন। প্রায় ১৮ শতাংশ ছিলেন স্বনির্ভর কর্মী।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে প্রয়োজন কর্মী
সার্বিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী দানিয়েল ইগ্রেচ বলেন, জনমিতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে দেশটির অতিরিক্ত শ্রমশক্তির প্রয়োজন হচ্ছে।
তিনি বলেন, সার্বিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং বড় প্রকল্পের কারণে বিদেশি কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। ২০২৭ সালে সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এক্সপো আয়োজনের জন্যও অতিরিক্ত শ্রমশক্তির প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।
বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা
বিদেশি কর্মী নিয়োগকে আরও সংগঠিত করতে সার্বিয়া নতুন নিয়ম চালু করেছে। ইগ্রেচ বলেন, সরকার শ্রম অভিবাসনকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে কাজ করছে। শ্রম গতিশীলতা চুক্তিগুলো সংগঠিত কর্মসংস্থানের নীতি চালু করে। বিদেশি কর্মী নিয়োগ নির্ধারিত পদ্ধতির ভিত্তিতে হবে এবং রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যে সবকিছু আইন ও চুক্তি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত যাচাইব্যবস্থা চালু করা হয়। শ্রম মন্ত্রণালয় নিয়মিত ও বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
ইগ্রেচ আরও বলেন, অনেক বিদেশি কর্মী তাদের অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না জানায় সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শিল্প শহর ক্রাগুয়েভাচে বাড়ছে বিদেশি কর্মী
মধ্য সার্বিয়ার শিল্প শহর ক্রাগুয়েভাচে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে অঞ্চলটিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য ১ হাজার ৭১৭টি বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্লাস শুমাদিয়া জানিয়েছে, এসব কর্মীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন নেপাল, ভারত ও মরক্কোর নাগরিক। এ ছাড়া বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, চীন, ইরান, নাইজেরিয়া ও রাশিয়ার নাগরিকরাও রয়েছেন।
শহরটির প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় কিছু খাতে শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রয়োজন হচ্ছে।
উজবেকিস্তানের সঙ্গে শ্রম অভিবাসন চুক্তি
বিদেশি কর্মী নিয়োগকে আরও সংগঠিত করতে সার্বিয়া ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সঙ্গে শ্রম অভিবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সার্বিয়ার শ্রমমন্ত্রী মিলিৎসা জুরজেভিচ স্তামেনকোভস্কি বলেন, এটি দেশটির প্রথম এ ধরনের চুক্তি। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় সার্বিয়ায় কাজ করতে আসা উজবেক নাগরিকরা স্থানীয় কর্মীদের মতো একই অধিকার পাবেন।
সার্বিয়ার এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, দেশটি শ্রম সংকট মোকাবিলায় এখন দ্বিপক্ষীয় শ্রম অভিবাসন চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী আনার পথকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্র: ইনফোমাইগ্র্যান্টস

