logo
Advertisement

মালয়েশিয়ায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে ৪ বাংলাদেশিসহ আটক ২৬

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে ৪ বাংলাদেশিসহ আটক ২৬
মালয়েশিয়ায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে ৪ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে আটক করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের নিয়ে যৌন ব্যবসার অভিযোগে বাংলাদেশি-থাই দম্পতিসহ ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

Advertisement

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যৌন ব্যবসার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে এ অভিযান চালায় পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা এবং বিশেষ অভিযান শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল।

বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটকদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন নারী, একজন থাই নারী, একজন মালয়েশীয় পুরুষ, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ ও একজন নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী এবং দুজন ভিয়েতনামি নারী রয়েছেন। অভিযানে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন, কনডম এবং কথিত কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া ১ হাজার ২১৫ মালয়েশীয় রিংগিত জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক বিদেশিদের কারও কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছিল না।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দুটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বিদেশি নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব স্থাপনায় গ্রাহক আকৃষ্ট করা হতো। বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালানো হতো।

তিনি বলেন, কথিত চক্রের মূল হোতারা কর্মীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করত এবং তাদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে আবাসিক স্থাপনাটি গোপনে পরিচালনা করা হতো।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক স্থাপনাটি একজন স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিক নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেখানে তিনি ‘ক্যাপ্টেন’ বা নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালন করতেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

জাকারিয়া শাবান জানান, আবাসিক স্থাপনায় ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিংগিত নেওয়া হতো। আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের জন্য নেওয়া হতো ২৬০ থেকে ৪০০ রিংগিত। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

গ্রেপ্তার বাংলাদেশি-থাই দম্পতি ও স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্য বিদেশিদের একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে।