logo

সাগরে নৌযান বিকল, মিশর উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৫৪ জন উদ্ধার

আফছার হোসাইন
আফছার হোসাইনমিশর
সাগরে নৌযান বিকল, মিশর উপকূলে বাংলাদেশিসহ ৫৪ জন উদ্ধার
ছবি: অনলাইন থেকে সংগৃহিত

মিশরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মাতরুহ গভর্নরেটের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে রাবারের নৌযান বিকল হয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশি ও সুদানিসহ ৫৪ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মিনিয়া গভর্নরেটের একজন মিশরীয় নাগরিকও রয়েছেন।

মিশরীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরাম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মাতরুহের পশ্চিম উপকূলে নাগিলা ও সিদি বাররানি শহরের মধ্যবর্তী সমুদ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া ও আফ্রিকার নাগরিকদের নিয়ে একটি রাবারের নৌযান ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছিল। সমুদ্রের মাঝপথে হঠাৎ নৌযানটি বিকল হয়ে পড়লে এতে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা চরম বিপদের মুখে পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা একটি এশীয় দেশের পতাকাবাহী জাহাজ থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। সংকেত পাওয়ার পর মিশরীয় উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে নৌযানে থাকা ৫৪ জনকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিকদের পাশাপাশি মিনিয়া গভর্নরেটের একজন মিশরীয় নাগরিকও রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তারা লিবিয়ার উপকূল থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের কোনো দেশে পৌঁছানো।

ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশি উদ্ধার, শিগগিরই দেশে ফিরছেন

স্থানীয় আরেকটি প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, নৌযানটি লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য গন্তব্য ছিল গ্রিস। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা।

উদ্ধারের পর ৫৪ জনকে সংশ্লিষ্ট মিশরীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং লিবিয়া থেকে সমুদ্রযাত্রার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এদিকে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে মিশরের আরেক উপকূলীয় শহর দামিয়াত্তায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ইউরোপে যাওয়া পথে ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌযান দুর্ঘটনায় পড়া, নিখোঁজ হওয়া কিংবা উদ্ধার হওয়ার ঘটনা মিশরের মাতরুহ উপকূলে নতুন নয়। বিশেষ করে নাগিলা, সিদি বাররানি ও পশ্চিম মাতরুহের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় সমুদ্রপথ অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সম্প্রতি এই এলাকায় বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনাও ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত মাসে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ৩৮ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌযান বিকল হয়ে পড়ার পর তারা প্রায় ১১ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে ছিলেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না পেয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়।

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর মিশরের মাতরুহ পুলিশের অস্থায়ী হেফাজতকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।