logo
Advertisement

ফেরাউন আখেনাতেনের নানির মমি ঘিরে নতুন কৌতূহল

আফছার হোসাইন, মিশর
ফেরাউন আখেনাতেনের নানির মমি ঘিরে নতুন কৌতূহল
ফেরাউন আখেনাতেনের নানির মমি। ছবি: সংগৃহীত

হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেছে। সময়ের স্রোতে বদলে গেছে সভ্যতা, রাজ্য ও মানুষের জীবনযাপন। কিন্তু প্রাচীন মিশরের এক নারীর মুখাবয়ব যেন আজও ধরে রেখেছে কোনো অজানা গল্পের ছাপ। তার মুখের অভিব্যক্তি দেখলে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে ৩ হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চোখেমুখে যেন এক ধরনের বিষণ্নতা রয়ে গেছে।

Advertisement

তিনি থুয়া প্রাচীন মিশরের রানি তিয়ের মা এবং ফারাও আখেনাতেনের নানি। তার সংরক্ষিত মমি প্রাচীন মিশরের রাজপরিবার ও অভিজাত সমাজের জীবনযাপন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হিসেবে বিবেচিত। তবে রাজপরিবারের বংশপরিচয়ের বাইরে থুয়ার মমিটির দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই চোখে পড়ে আরও কিছু বিস্ময়কর বিষয়।

থুয়ার মমির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো তার চুল। হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও তার মাথার চুলের অনেকটাই এখনো দৃশ্যমান। আরও বিস্ময় জাগায় চুলের রং। অনেকের চোখে এটি হলুদ কিংবা সোনালি আভাযুক্ত বলে মনে হয়। এখান থেকেই তৈরি হয়েছে একটি কৌতূহল হলো প্রাচীন মিশরের একজন নারীর চুল এতটা হলুদ বা সোনালি দেখায় কেন?

তবে শুধু চুলের রং দেখেই তার স্বাভাবিক চুলের প্রকৃত রং সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মমি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া, সময়ের প্রভাব এবং ব্যবহৃত বিভিন্ন পদার্থের কারণে চুলের রং পরিবর্তিত বা ভিন্নভাবে প্রতীয়মান হতে পারে।

থুয়ার মমির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তার কান। ভালোভাবে লক্ষ্য করলে কানে একাধিক ছিদ্রের চিহ্ন দেখা যায়। আজকের দিনে কানে একাধিক ছিদ্র করে অলংকার পরা খুবই পরিচিত একটি বিষয়। কিন্তু তিন হাজার বছরেরও বেশি আগে প্রাচীন মিশরের একজন নারীর কানে একাধিক ছিদ্রের অস্তিত্ব নিঃসন্দেহে কৌতূহল তৈরি করে, যা প্রাচীন মিশরীয় সমাজে অলংকার, সৌন্দর্যচর্চা ও ব্যক্তিগত সাজসজ্জার প্রচলন সম্পর্কেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

থুয়ার মমি শুধু একটি প্রাচীন মরদেহ নয় বরং এটি সময়ের একটি জানালা। তার চুল, কানের অলংকার ব্যবহারের চিহ্ন এবং মুখাবয়ব সবকিছু মিলিয়ে আজও গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো ৩ হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও থুয়ার মুখের অভিব্যক্তি দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। অনেকের কাছে মনে হয়, তার মুখে আজও যেন এক ধরনের বিষণ্নতার ছাপ রয়েছে।

অবশ্য সেই অভিব্যক্তির পেছনে কী ছিল, তা জানার কোনো উপায় নেই। এটি হয়তো মমি সংরক্ষণের ফলে তৈরি হওয়া মুখের আকৃতি, আবার কারও কাছে তা হাজার বছরের পুরোনো এক নারীর জীবনের নীরব গল্পের মতো মনে হয়।

সময়ের কাছে মানুষ হারিয়ে যায়, হারিয়ে যায় রাজত্ব ও সভ্যতা। কিন্তু থুয়ার মতো মমিগুলো ইতিহাসকে ধরে রাখে এক অদ্ভুত উপায়ে।