logo
Advertisement

কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা

কলকাতা ব্যুরো ,পশ্চিমবঙ্গ
কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা
কলকাতায় হোটেল না পেয়ে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন রোগীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের বহু রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

Advertisement

গত ১৮ আগস্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এতে হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা পাচ্ছেন না তারা। ক্যানসারের চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকে হোটেল না পেয়ে হাসপাতালের বাইরে বা রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে।

চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার, বিশ্রাম ও নিরাপদ আবাসন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি হোটেলে কক্ষ পাওয়া গেলেও বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারতীয় রোগীরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সাধারণত ক্যান্সার রোগীদের শারীরিক সমস্যার কারণেই হাসপাতালের কাছাকাছি কোন জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। সেক্ষেত্রে ভারতের চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশী রোগী ও তাদের পরিবারের প্রথম পছন্দ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা কিংবা নিউ মার্কেট। কিন্তু নিউমার্কেটের পর এবার কলকাতায় ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও হোটেল পাচ্ছেন না রোগী ও তাদের স্বজনরা।

নিজের চিকিৎসা করাতে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে এসেছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা সামিয়া বেগম ও স্বামী মাহবুব আলম। গত ২৭ আগস্ট কলকাতা এসেছেন। ৪ আগস্ট তারিখে হসপিটালে রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে, তিনি জানান, ‘স্থানীয় একটা হোটেলে উঠেছি কিন্তু সেখানে পুলিশ এসে আমাদের হোটেল ছাড়তে বলে। সেই থেকে খাওয়া-দাওয়া আমাদের কিছু নেই’।

বোন'কে নিয়ে বাংলাদেশের নেত্রকোনা থেকে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালের চিকিৎসা করাতে এসেছেন বাংলাদেশের বাসিন্দা রাজু। হাসপাতালে বসিয়ে হোটেল খুঁজছেন ভাই। তিনি বলেন, 'কোথাও হোটেল দিচ্ছে না। এখন পেশেন্ট নিয়ে খুব বিপদে পড়ে রয়েছি। তিনি জানান দুদিন আগে এসেছি, হোটেলে ছিলাম। কিন্তু আজ হোটেল থেকে বের করে দিয়েছে’। হোটেল বন্ধ থাকলে ভিসা দিল কেন বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এদিকে রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ অর্ণব গুপ্ত জানিয়েছেন, ’চিকিৎসা করতে আসা অনেক বাংলাদেশী রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারছি সাহায্য করছি। কিন্তু সবাইকে সহায়তা করা সম্ভব নয়’।