ঢাকা-আমিরাত ৩০ হাজারের বিমান ভাড়া এখন ১ লাখ ২০ হাজার

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে দেশে এসে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মুখে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়া আকস্মিকভাবে অনেকের ভিসা ‘অটো ক্যানসেল’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো টিকিটের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে ঢাকা থেকে আমিরাতগামী বিমান ভাড়া ৩০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাকরি রক্ষা ও টিকিটের চড়া দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আটকে পড়া আমিরাত প্রবাসীরা।
অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্ম স্কাইসক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাই দুবাই ও এমিরেটস ফ্লাইটের ৮ আগস্টের ঢাকা থেকে আমিরাতগামী বিমানের টিকিটের মূল্য দেখা গেছে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার বেশি (এইডি ৩,১১৩-৩,৪২৪)। অন্যদিকে বাংলাদেশি বেসরকারি দুটি এয়ারলাইনসের ২৯ জুলাইয়ের আমিরাতগামী টিকিটের দাম ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি দেখা গেছে (এইডি ২,৯৪২-৩,৫৩৮)। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এসব টিকিটের দাম ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের মধ্যে পাওয়া যেত।
কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত রেমিট্যান্স দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন যে প্রবাসীরা, দেশে এসে তারাই এখন বন্দি এক কঠিন অনিশ্চয়তায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে আসার পর, নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষের আগেই অনেকের ভিসা ‘অটো ক্যানসেল’ হয়ে যাচ্ছে। কোনো আগাম নোটিশ বা সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই এভাবে ভিসা বাতিলের খবরে ঘুম হারাম প্রবাসীদের।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে আমিরাতের বর্তমান কাজের পরিবেশ। নতুন শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকা, ভিসা ট্রান্সফারের সুযোগ না পাওয়া এবং নবায়ন জটিলতায় এমনিতেই কোণঠাসা বাংলাদেশিরা।
এর ওপর আবার আগুনে ঘি ঢেলেছে বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর অপতৎপরতা। কর্মস্থলে তড়িঘড়ি করে ফেরার তাগিদকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিমান সংস্থাগুলো। যেখানে ঢাকা থেকে আমিরাতগামী বিমানের টিকিটের দাম ৩০ হাজার টাকা ছিল, সেখানে এক লাফে এ দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারে।
এমনিতেই মাথার ওপর চাকরি হারানোর ভয়, তার ওপর বিমান টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের। প্রবাসীদের দাবি, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত ভিসা বাতিলের সঠিক কারণ নির্ণয় ও সমাধান করা। পাশাপাশি টিকিটের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি তাদের।
আমিরাত প্রবাসী আবদুল আলিম মাসুদ বলেন, গত এপ্রিলে চার মাসের ছুটিতে দেশে আসি। ভিসা অটো ক্যানসেল হওয়া খবর শুনে ছুটির মাঝে আমার ভিসার মেয়াদ ঠিক আছে কিনা চেক করি, তখন সব ঠিকঠাক পাই। এরপ জুলাইয়ের ৩১ তারিখের রিটার্ন টিকিট করি। তখনও আমার ভিসা অ্যাকটিভ পেয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি টিকিট কাটার পর আমার ভিসা কোনো কারণ ছাড়া অটো ক্যানসেল হয়ে গেছে। এরকম আরও অনেক আমিরাত প্রবাসীর ভিসা অটো ক্যানসেল হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি আমিরাতে চাকরি করি। আমার ভিসার মেয়াদ আরও তিন মাসের বেশি আছে। এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আমিরাতের আরেক প্রবাসী জানান, তিনি ৩০ মার্চ দেশে আসেন। তার ভিসার মেয়াদ এবং অন্যান্য বিষয় সব ঠিক আছে। কিন্তু ২২ জুলাই দেখতে পান তার ভিসা অটো ক্যানসেল হয়ে গেছে। ঠিক কী কারণে তার ভিসা ক্যানসেল হয়েছে জানেন না তিনি।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই বহুমুখী সংকট কেবল ব্যক্তি প্রবাসীর নয়, বরং দেশের অর্থনীতির ওপরও এক বড় ধাক্কা। টিকিট সিন্ডিকেট দমন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসা জটিলতা নিরসন করে প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরানো নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
.png)





