সংবাদপত্র জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়: কাদের গনি

সংবাদপত্র দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মুমেন মজুমদারের সঞ্চালনায় আড্ডায় ইউএনজিএতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিক এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, মনে রাখতে হবে, দাসত্বের সাংবাদিকতাকে মানুষ গ্রহণ করে না। গত ১৭ বছরে আমরা অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখেছি। এর কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনোই সহজ বা মসৃণ ছিল না। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না। যা মুখে আসবে তা বলাই বাকস্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার কথাও মনে রাখতে হবে।
গণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, এসব মিডিয়া সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। অধিকাংশ মিডিয়ার প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা না করে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও সামাজিকভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
এসব বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইনের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তবে একই সঙ্গে আইন যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। ওয়েজবোর্ড মেনে বেতন দিতে হয় না বলেই অসংখ্য ভূঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। তার মতে, ভূঁইফোড় গণমাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি বলেন, এসব গণমাধ্যমের তথাকথিত সাংবাদিকদের একটি অংশ চাঁদাবাজি করছে এবং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহার করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ম্লান হচ্ছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি জানিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তারা সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি জানাচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তারা যেখানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ছুটি পান, সেখানে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ও ছুটির বিষয়টি এখনও যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাগর-রুনিসহ অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। সাংবাদিকরা জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বললেও কর্মক্ষেত্রসহ কোথাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে চাকরির নিশ্চয়তাও নেই।
সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএফইউজে মহাসচিব। তিনি বলেন, আজকে আমাদের মাঝে বহু বিভাজনের কারণে আমরাই দুর্বল হচ্ছি। সরকার ও মালিকরা এর সুযোগ নেন।
