মিশর থেকে দেশে ফিরলেন ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া আরও ৪১ বাংলাদেশি

মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরও ৪১ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার মিশরের পোর্টসাইদে আটক এসব বাংলাদেশিকে তৃতীয় ধাপে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। এর আগে গত ৪ অক্টোবর ছয় জন ৬ অক্টোবর ১১ জনকে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। সবমিলিয়ে মোট ৫৮ জনের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।
মিশরে বাংলাদেশ দুতাবাসের শ্রম উইং জানায়, মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে লিবিয়ার তবরুক থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন এসব বাংলাদেশি। সাগরে বিপদাপন্ন হলে তাঁদের উদ্ধার করে মিশরের পোর্টসাইদে নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধার হওয়া ৫৮ জনের মধ্যে ৫৫ জনকে ‘কিংস্টন’ (KINGSTON) নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বাকি তিনজনকে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ (MSC VIRGINIA) নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সার্বিক অবস্থা, সমুদ্রযাত্রা ও উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও কনস্যুলার সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে গত ৩ অক্টোবর মিশরের পোর্টসাইদ কারাগার পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
দূতাবাসের উদ্যোগে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অর্থায়নে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দূতাবাস আরো জানায়, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী ও অবৈধ অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভন থেকে নাগরিকদের বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা
উন্নত জীবনের আশায় মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেক বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের যাত্রায় উত্তাল সমুদ্র, নৌযানের অনিরাপত্তা, খাবার ও পানির সংকট এবং পাচারকারীদের প্রতারণার কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রলোভননির্ভর ও অনিয়মিত পথ এড়িয়ে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এতে মানবপাচার ও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।