বাতিলের সিদ্ধান্তের পরও ইউরোপে কেন পেছাল ঘড়ির কাটা?

আজ (২৫ অক্টোবর) রোববার থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা। অথচ ২০১৯ সালের শেষ দিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই সময় পেছানোর প্রথা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
এ নিয়ে ইউরো নিউজ প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তন করার বিষয়টি ইউরোপজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই অপছন্দনীয় একটি বিষয়। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিচালিত এক পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ঋতুভেদে সময় পরিবর্তনের এই প্রথা বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন, যা এই ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক অসন্তোষেরই প্রতিফলন।
পরের বছর, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য ইউরোপীয় কমিশনের একটি প্রস্তাবকে বিপুল সমর্থন জানায়। সেই প্রস্তাব পাশের পর অর্ধযুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইউরোপীয়রা এখনও বসন্তকালে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে দিচ্ছেন এবং শরৎকালে তা পিছিয়ে দিচ্ছেন।
ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত
এর কারণ, এ পরিবর্তনটি কীভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়া। ফলে প্রস্তাবটি এতদিন ধরে থমকে আছে। এছাড়া, কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের কারণে রাজনৈতিক এজেন্ডায় এই বিষয়টি গুরুত্বের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে।
রোববার সকালে সময়ের পরিবর্তন
ঐতিহ্য অনুযায়ী, শরৎকালে অক্টোবরের শেষ রোববারে ঘড়ির সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়। যথারীতি এবছর ২৪ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে ঘড়ির সময় ভোর ৩টা থেকে পিছিয়ে ভোর ২টা করা হয়। এর অর্থ হলো, যারা রাতে কাজ করেন না, তারা গতরাতে এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে সকালবেলা আগের চেয়ে একটু আগেই আলো ফুটবে এবং সন্ধ্যাবেলাও একটু আগেই অন্ধকার নেমে আসবে।
ইউরোপে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে সিকে ফ্রোজেন ফুড
অক্টোবরের শেষ দিকে ঘড়ির সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান সামার টাইম (সিইএসটি) -এর সমাপ্তি ঘটে এবং ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলে পুনরায় সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম (সিইটি) কার্যকর হয়, যা সাধারণত ‘শীতকালীন সময়’হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম পর্তুগাল এবং যুক্তরাজ্য। কিন্তু দেশ দু’টির ঘড়ির সময় পরিবর্তন করা হলেও সেখানে সময় ইউরোপের মহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তুলনায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকে।