রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ময়মনসিংহের যুবক নিহত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আবদুর রহিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি রুশ বাহিনীর ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
নিহত আব্দুর রহিম (৩০) জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুটিজানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আজিজুল হকের ছেলে। আব্দুর রহিম গত বছর রাশিয়া গিয়েছিলেন।
পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. আফরোজা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আব্দুর রহিম আমার আত্মীয়। দ্রুত রহিমের মরদেহ দেশে আনা হোক—সরকারের কাছে এটাই চাওয়া।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানান, আব্দুর রহিম ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করার পর জীবিকার সন্ধানে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। সেখানে টানা সাত বছর কর্মজীবন কাটানোর পর প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরে আসেন।
পরে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দালালের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়া যান রহিম। সেখানে চাকরি করার সময় আরও ভালো চাকরি পাওয়ার আশায় বাড়ি থেকে আরও তিন লাখ টাকা নেন। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি রাশিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। কিন্তু পরে জানা যায়, দেড় লাখ টাকা বেতনে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়ে সেনাবাহীনিতে চাকরি করছেন।
আব্দুর রহিম চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার রহিম নিহত হন। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও চারজন।
রোববার (১০ মে) রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানান। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনা সদস্য হিসেবে কমরত ছিলেন। হামলায় তিনি গুরতর আহত হয়ে এক পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত্যুর সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে নেমে আসে শোক। নিহত আব্দুর রহিমের মা রমিছা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটা সংসারের সুখের জন্য বিদেশে গেছিল। বলছিল ভালো চাকরি করছে। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচব? আমার ছেলেটার মুখটা একনজর দেখবার চাই।’
নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, ‘সে (আব্দুর রহিম) যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি, জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না।’
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, মরদেহ দেশে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন বলেন, মরদেহ দ্রুত নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানাচ্ছি। আশা করছি সব প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই মরদেহ দেশে আসবে।