মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মারসা মাতরুহ ভ্রমণ

মিশরের ‘মালদ্বীপ’খ্যাত মারসা মাতরুহের নীল জলরাশি, শুভ্র সৈকত আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সফরে মেতে উঠেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা, আনন্দ, প্রকৃতির সান্নিধ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে একসূত্রে গেঁথে দারুল আজহার বাংলাদেশ, মিশর শাখা আয়োজন করে দিনব্যাপী এ বিশেষ শিক্ষা সফর।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ সফরে মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় কায়রোর মদিনাতুল বুউস আল-ইসলামিয়া থেকে বাসযোগে শুরু হয় শিক্ষা সফরের যাত্রা। দীর্ঘ রাতের পথ পেরিয়ে ফজরের সময় অংশগ্রহণকারীরা পৌঁছান সাগরকন্যা মারসা মাতরুহে।
সকালের সূর্যোদয়ের অপূর্ব মুহূর্তে ইয়ট ভ্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। নীল সমুদ্রের বুকে ভেসে সূর্যের প্রথম কিরণ উপভোগের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা অবলোকন করেন মারসা মাতরুহের বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সাগরের ঢেউ, নির্মল আকাশ আর সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আবহ।
এরপর তারা সময় কাটান মারসা মাতরুহের বিখ্যাত আল-আবইয়াদ (শুভ্র সৈকত)-এ। শুভ্র বালুর সঙ্গে নীল সমুদ্রের অপূর্ব মেলবন্ধন মুগ্ধ করে সফরকারীদের। কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, আবার কেউ ক্যামেরাবন্দি করেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো।
দুপুরের খাবারের পর বিকেলে সফরকারীরা যান বিখ্যাত আজিবা সৈকতে। পাহাড়, নীল সমুদ্র ও দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্যের অপূর্ব সমন্বয় সেখানে তাদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে চলে ছবি তোলা, গল্প, আড্ডা ও আনন্দঘন সময় কাটানো। পরে শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে তারা লিবিয়া মার্কেট পরিদর্শন ও কেনাকাটা করেন। এরপর ভার্জিনিয়া ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে।
শিক্ষা সফরের সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন দারুল আজহার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ হাবিবুল বাশার আজহারী। তিনি বলেন, ভ্রমণ শুধু বিনোদনের জন্য নয়; বরং আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য অবলোকনের মাধ্যমে তাঁর কুদরত উপলব্ধি এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগও তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর কুদরত দেখে যেন আমাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পায় এবং আমরা আমাদের আমল ও ইবাদতের প্রতি আরও যত্নবান হতে পারি—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।”
শায়েখ হাবিবুল বাশার আজহারী আরও বলেন, ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি যেমন বাড়ে, তেমনি সৃষ্টি ও প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে আত্মিক শিক্ষাও অর্জন করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের শিক্ষামূলক, জ্ঞানবর্ধক ও আত্মিক চেতনা জাগ্রতকারী রেহলা আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৭টায় কায়রোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে রেহলাদল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরলেও অংশগ্রহণকারীদের মনে থেকে যায় নীল সমুদ্র, শুভ্র সৈকত, সূর্যোদয় আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর স্মৃতি।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা, দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে মানসিক প্রশান্তির সুযোগ তৈরি করা এবং মিশরের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করানোর পাশাপাশি ভ্রমণের মাধ্যমে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আত্মিক উপলব্ধি অর্জনই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।


