হাঙ্গেরির কাজের ভিসা নিয়ে নতুন ঘোষণা

বিদেশি শ্রমিক নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে হাঙ্গেরি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলো থেকে কর্মী আনার জন্য কর্মভিসা দেওয়া বন্ধের পরিকল্পনা করছে দেশটির নতুন সরকার। এমন সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।
হাঙ্গেরির ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, হঠাৎ এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে শ্রম-সংকটে থাকা দেশটির উৎপাদনব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। আর মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ-ইউরোপীয় কর্মীদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবসম্মত হবে না।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে হাঙ্গেরিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়ী হয় পিটার মাজারের দল তিসজা পার্টি৷ এর মধ্য দিয়ে ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
নির্বাচনি ইশতেহারে তিসজা পার্টি জানিয়েছিল, আগামী মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হবে। আমরা বিদেশি কর্মীদের হাঙ্গেরিয়ানদের চাকরি নিতে এবং মজুরি কমিয়ে দিতে দেব না।
দলটির এমন অবস্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্য ইউরোপের দেশটিতে বিনিয়োগকারী বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান।
আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান র্যান্ডস্টাডের আঞ্চলিক প্রধান স্যান্ডর বাজা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা কর্মীদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবসম্মত হবে না।
তিনি মনে করেন, আগামী এক দশকে হাঙ্গেরির বিপুলসংখ্যক কর্মী অবসরে চলে যাবেন, ফলে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যান্ডর বাজা বলেন, আমি আন্তরিকভাবে আশা করি অর্থমন্ত্রী ইস্তভান কাপিতানির দল অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেবে।
হাঙ্গেরির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে হাঙ্গেরির মোট শ্রমশক্তির মাত্র ২ শতাংশ বিদেশি কর্মী। তবে জার্মানি, পোল্যান্ড বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থী হাঙ্গেরিতে না আসায় দেশটির শ্রমবাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবাখাত বিদেশি কর্মীদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল৷
দেশটির আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আকস ইয়াঞ্জা জানিয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে হোয়াইট কলার ও ব্লু কলার মিলিয়ে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা মোট শ্রমিকের ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন খাতে কাজ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি সদস্য প্রতিষ্ঠান আছে, যেটিকে বিদেশি গেস্ট ওয়ার্কার ছাড়া একটি পূর্ণ শিফট বন্ধ করতে হবে।’
র্যান্ডস্টাডের স্যান্ডর বাজা বলেন, ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণ, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং ছোট শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় চার লাখ সম্ভাব্য কর্মী রয়েছেন। তবে চলাচল ও কর্মস্থলে যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঘাটতি সহজে পূরণ করা সম্ভব হবে না।
হাঙ্গেরিতে জার্মান ব্যবসায়ী চেম্বারের প্রধান রবার্ট কেসটে সতর্ক করে বলেছেন, ভিসা বন্ধের পরিকল্পনা দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মতে, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর কর্মী ছাড়া হাঙ্গেরির অর্থনীতি চলতে পারবে না।’
সূত্র : ইনফো মাইগ্র্যান্টস
