মিশর প্রবাসী আফছার হোসাইনের মেক্সিকো জয়ের গল্প

১৯৯৫ সালে মেক্সিকোর দূতাবাসে চাকরির সুবাদে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ থেকে মিশরে পাড়ি জমান আফছার হোসাইন। নীলনদের তীরে শুরু হওয়া তার তিন দশকের বেশি প্রবাস জীবনে মিশরকে আপন করে নেওয়ার পাশাপাশি কাজের সূত্রে মেক্সিকোর মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গড়ে উঠেছে গভীর সম্পর্ক।
দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মেক্সিকান কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার তৈরি হয় পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মেক্সিকোর নাগরিকদের সেবা, সহযোগিতা এবং দেশটির সংস্কৃতি প্রচারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আফছার হোসাইনকে ২০২০ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকো সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘ওহটলি অ্যাওয়ার্ড’ (Ohtli Award)- ভূষিত করা হয়।
মেক্সিকোর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কায়রোতে মেক্সিকান দূতাবাসের বাগানে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মিশরে নিয়োজিত দেশটির তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জোসে অক্টাভিও ট্রিপ ‘ওহটলি অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিয়েছিলেন আফছার হোসাইন এর হাতে।
১৯৯৬ সাল থেকে মেক্সিকো সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেক্সিকোর জনগণ, সংস্কৃতি ও স্বার্থের জন্য বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ সম্মাননা দিয়ে আসছে। দীর্ঘ মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। প্রথমবারের মতো কোন বাংলাদেশি এ পুরুষ্কারের ভূষিত হওয়ার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের জন্যও সম্মান বয়ে এনেছিলেন আফছার হোসাইন।
এ প্রসঙ্গে আফছার হোসাইন বলেন, তার হাতে যখন সম্মাননাটি তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন ব্যক্তিগত আনন্দকে ছাপিয়ে তার মনে তৈরি হয়েছিল অন্যরকম এক অনুভূতি— কারণ তিনি একজন বাংলাদেশি এবং তার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।
মেক্সিকো সরকারের এই সম্মাননা পাওয়ার খবর সে সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। চাকরির পাশাপাশি আফছার হোসাইন সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে এশিয়া পোস্টের মিশর প্রতিনিধি। দুই সন্তানের জনক এ মিশর প্রবাসীর একমাত্র কন্যা পুষ্পা হোসাইন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং সেখানে তিনি পিএইচডি গবেষণারত। অন্যদিকে, ছেলে নাঈম হোসাইন কানাডার নাগরিক এবং সেখানে বিশ্বখ্যাত আইটি প্রতিষ্ঠান ডিলয়েট (Diloitte) এ কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত।

