logo

লন্ডনে কাউন্সিলের বাসা কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন

লন্ডনে কাউন্সিলের বাসা কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন
ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান লন্ডনে কাউন্সিলের বাসা পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাসরত বৈধ অভিবাসীরা কাউন্সিল বা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের বাসা পেতে পারেন। এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে পুরো যুক্তরাজ্যে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, কাউন্সিলের বাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি নিয়ম নেই। কোন কাউন্সিলে কতদিন বসবাস করতে হবে, কী ধরনের পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে- এসব বিষয় কাউন্সিলভেদে ভিন্ন হতে পারে।

তিনি উদাহারণ হিসেবে বলেন- টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম ও বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামের মতো কিছু কাউন্সিলে নির্দিষ্ট সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাসের শর্ত রয়েছে। কোথাও টানা তিন বছরের বেশি সময় বসবাসের পর কাউন্সিলের সামাজিক আবাসনের জন্য নিবন্ধন বা বাসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।

আবেদন করার পর প্রথমে দেখা হয় আবেদনকারী কতদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন। এরপর পরিবারের সদস্যসংখ্যার তুলনায় বর্তমান বাসার আকার যথেষ্ট কি না, অর্থাৎ বাসাটি অতিরিক্ত জনবহুল বা অতিরিক্ত মানুষ বসবাস করছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, কোনো পরিবারে পাঁচজন সদস্য থাকলেও তারা যদি এক বা দুই বেডরুমের বাসায় থাকেন, তাহলে বাসাটি অতিরিক্ত জনবহুল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব করা হয়।

এর পাশাপাশি পরিবারের কারও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেদনকারী অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

তিনি বলেন, শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেই কাউন্সিলের বাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর বর্তমান বাসার অবস্থাও বিবেচনা করা হয়। যেমন, কেউ স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগলেও যদি তিনি এমন একটি উপযুক্ত বাসায় থাকেন যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং লিফটসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা আছে, তাহলে সামাজিক আবাসনের জন্য তার অগ্রাধিকার কম হতে পারে।

এ ছাড়া এক বা একাধিক সন্তানসহ সিঙ্গেল মা, বেশি সন্তান নিয়ে ছোট বাসায় বসবাসকারী পরিবার, অতিরিক্ত জনবহুল বাসার কারণে দ্রুত বাসা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে- এ ধরনের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। নতুন বিবাহিত কোনো দম্পতি যদি বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন, তাদের ক্ষেত্রেও কিছু সুযোগ থাকতে পারে।

কাউন্সিলের বাসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, শুধু কয়েক বছর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাস করলেই কাউন্সিলের বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। অনেক এলাকায় সাত-আট বছর বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। আবার অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার কিছু এলাকায় চার-পাঁচ বছরের মধ্যেও কেউ কেউ বাসা পেতে পারেন। তবে অগ্রাধিকার পাওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকলে অপেক্ষার সময় কমতে পারে।

ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আবেদনকারীর আয়ও কিছু ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। কেউ নিয়মিত আয় করেন এবং নিজে ভাড়া পরিশোধ করতে সক্ষম হলেও যদি তার বর্তমান বাসা অতিরিক্ত জনবহুল হয়, তাহলে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কাউন্সিলের নিজস্ব আবাসন দিতে না পারলে কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি আবাসন ভাড়া নিয়ে আবেদনকারীকে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। এর মাধ্যমে কাউকে গৃহহীন হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়।

কাউন্সিলের বাসার জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এর মধ্যে পরিচয়পত্র, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কতদিন ধরে বসবাস করছেন তার প্রমাণ, আয়সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যগত সমস্যার নথি দিতে হতে পারে।

তবে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলে সামাজিক বা স্থানীয় আবাসন পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকলে কাউন্সিল হাউজিংয়ের সুযোগ সাধারণত পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, কাউন্সিলের বাসার জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের নিয়মগুলো যাচাই করা জরুরি। আবেদনকারীকে প্রথমে দেখতে হবে তিনি নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করছেন কি না। যোগ্যতা থাকলে নিজেই অনলাইনে আবেদন করা যায়। প্রয়োজন হলে যোগ্য আইনজীবী বা আইনগত পরামর্শদাতার কাছ থেকেও পরামর্শ নিয়ে আবেদন করা যেতে পারে।